ঢাকা অফিস :
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এসময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ আরো অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। দলের নেতাকর্মীরা নুরুল হক নুরকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় তাদের দোষর জাতীয়পার্টির সন্ত্রাসীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে হামলা করেছে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, তারা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার লোকজনই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে উসকানি দিয়েছে।
অপরদিকে জাপার নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, মিছিল নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে অনেকেই আহত হয়েছেন, তবে কতজন আহত হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য।
রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আতিকুল আলম খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। বিস্তারিত পরে বলতে পারবো।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আমাদের আজকে বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আমরা পল্টন জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিল নিয়ে নাইটেঙ্গেল মোড়া যাওয়ার পথে জাতীয় পার্টির কার্যালয় পার হওয়ার সময় পেছন থেকে আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে ৩-৪শ’ লোক ছিল। আমাদের ধারণা জাতীয় পার্টি ছাড়াও সেখানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা ছিল।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় আমাদের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের অনেককে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতে সংবাদ সম্মেলন ও মশাল মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।
সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের আমলে অনুষ্ঠিত সব বিতর্কিত নির্বাচনেই অংশ নিয়েছে। নজিরবিহীনভাবে তারা যেমন সংসদের বিরোধীদল ছিল, তেমনি অংশ নিয়েছে সরকারের মন্ত্রিসভায়ও।
গণঅধিকার পরিষদসহ কিছু রাজনৈতিক দলের দাবি, ফ্যাসিবাদী শাসনকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাপা সহযোগীর ভূমিকায় ছিল। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পাশাপাশি জাপারও কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।
ঘটনার সময় জাপা নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
পরে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী এসে জাপা নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়। তৎক্ষণাৎ গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ঘটনাস্থল ছাড়তে ১০ মিনিট সময় দেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর মধ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় সেখানে ব্যাপক লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে।

















