⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

ভাসানীই ধানের শীষ প্রতীক জিয়াকে দিয়েছিলেন

HTML tutorial

ঢাকা অফিস :
পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষি কার্ড উদ্বোধন করতে এসে সন্তোষে মাওলানা ভাসানীর সমাধি জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, মাওলানা ভাসানী তার দলের ধানের শিষ প্রতীক দিয়ে যান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে। এটা শতভাগ সঠিক বলে দাবি করেন সেই সময়কার তরুণ সাংবাদিক এলাহী নেওয়াজ খান সাজু। তবে সময়ক্ষণ হেরফের আছে। ৭৯ সাল নয় ৭৬ সালে ভাসানী ও জিয়ার ওই সাক্ষাতে প্রতীকের বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে কথা হয়ছিলো বলে সাংবাদিক এলাহী নেওয়াজ খান সাজু স্মৃতিচারণা করে জানান।

এই ভুলের জন্য সাজু প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের অনভিজ্ঞতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে এই সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, ‘টাঙ্গাইলের ঐ মঞ্চে এমন কোনো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, যিনি কানে কানে ভুলটা শুধরিয়ে দেবেন। এতে আবারো প্রমাণ হলো, অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নেই।’

এলাহী নেওয়াজ খান সাজুর স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো: Politics

‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান টাঙ্গাইলের এক টঅনুষ্ঠানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যা বলেছেন তা সঠিক, শুধু সময়ের হেরফের।

‘ঘটনাটি ঠিক এ রকম- সম্ভবত সেটা ১৯৭৬ সালের অক্টোবর মাস। মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পিজি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে বেশ উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা যায়। বিশেষ করে ভাসানীর অনুসারীরা এ খবর জানার পর পিজি হাসপাতালের সামনে ঝড় হতেন সবাই। প্রতিদিনই বড় বড় নেতারা দেখতে আসতেন। আমিও ২-১ বার গিয়েছি।

হঠাৎ একদিন সম্ভবত ২১ অক্টোবর জেনারেল জিয়াউর রহমান মজলুম নেতাকে দেখতে আসেন। তখন প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান সামরিক প্রশাসক ছিলেন বিচারপতি সায়েম। সেনাপ্রধান ও উপ সামরিক প্রশাসক ছিলেন জিয়াউর রহমান। আর তখন প্রবীণ ও নবীন দুই নেতার মধ্যে কি ধরনের কথাবার্তা হয়েছিল তার কিছু আমরা পরে জানতে পেরেছিলাম। সম্ভবত ভবিষ্যৎ রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে জিয়াউর রহমান অচিরেই জাতীয় নির্বাচন প্রদানের কথা মৌলানা ভাসানীর কাছে উপস্থাপন করেন। কিন্তু মাওলানা ভাসানী সঙ্গে সঙ্গে তাতে আপত্তি তুলে বলেন, আগে দল গঠন কর, তারপর নির্বাচন দেও। এখন নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় চলে আসবে। এরপর মাওলানা ভাসানী জিয়াউর রহমানের উপর পরিপূর্ণ আস্থা রেখে বললেন, ন্যাপের ধানের শীষ প্রতীকও তোমাকে দিয়ে দিলাম। এই ঘটনার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর প্রায় শতাব্দীর রাজনৈতিক উত্থান পতনের সাক্ষী মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী দেশবাসীকে কাঁদিয়ে আল্লাহর কাছে চলে যান। সংবাদ পোর্টালে বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) জাতীয়তাবাদী জোটে যোগদান এবং অতঃপর বিএনপিতে একীভূত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ধানের শীষ প্রতীক বিএনপির হয়ে যায়। সুতরাং ১৯৭৯ সালে নয়, বরং তার বেশ আগে ১৯৭৬ সালের অক্টোবর মাসের দিকে মাওলানা ভাসানী ধানের শীষ প্রতীক জিয়াউর রহমানকে প্রদানের কথা বলেছিলেন। তবে যে বিষয়টি সবার মনে লেগেছে সেটা হচ্ছে যে, টাঙ্গাইলের ঐ মঞ্চে এমন কোন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, যিনি কানে কানে ভুলটা শুধরিয়ে দেবেন। এতে আবারো প্রমাণ হলো, অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নেই।’

 

HTML tutorial

Leave a Reply