⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

ব্রাজিল দলে জায়গা পেতে নেইমারকে কী করতে হবে, জানিয়ে দিলেন আনচেলত্তি

HTML tutorial

গত মে মাসের শেষ দিকে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলেছে সেলেসাওরা। দুই দফায় হওয়া এ চার ম্যাচের দলে নেইমারকে রাখেননি সাবেক রেয়াল মাদ্রিদ কোচ। এর মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে চিলি ও বলিভিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ দুটি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। ঘরের মাঠে চিলির বিপক্ষে জিতলেও বলিভিয়ার মাঠে গিয়ে বাছাইয়ের শেষটা হার দিয়ে হয়েছে ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

সেপ্টেম্বরের দুই ম্যাচের ব্রাজিল দলে নেইমারের জায়গা না পাওয়া নিয়ে শুরুতে সান্তোস তারকার ফিটনেস তথা চোট সমস্যার কথা ভাবা হচ্ছিল। তবে নেইমার জানিয়েছেন, শারীরিক অবস্থায় পুরোপুরি ফিট থাকলেও টেকনিক্যাল কারণে জায়গা হয়নি আনচেলত্তির দলে। পরে অবশ্য আনচেলত্তিও একই কথা জানিয়েছেন।

তা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে না হয় কৌশলগত কারণে জায়গা হলো না নেইমারের। ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বেও কি নেইমারকে ছাড়াই খেলতে নামবে সেলেসাওরা? এটার জবাব দিয়েছেন আনচেলত্তি নিজেই। ব্রাজিল কোচ জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে চাইলে নেইমারের প্রমাণ করতে হবে যে, ও ভালো শারীরিক অবস্থায় আছে। আর দলে জায়গা পেলেও আগের মতো একই পজিশনে খেলতে পারবেন না নেইমার, সেটাও জানিয়েছেন ব্রাজিল কোচ।

জাতীয় দলের হয়ে নেইমার শেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে গিয়ে চোটে পড়েন নেইমার। সেই চোটে এক বছরের বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় ব্রাজিলের জার্সিতে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে (৭৯)।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল থেকে সান্তোসে নাম লেখান নেইমার। কিন্তু সান্তোসে ফিরেও চোটের সঙ্গে সখ্যতা চলতে থাকে ব্রাজিল তারকার। এতে আনচেলত্তির দলে দুই দফাতেই ব্রাজিল স্কোয়াডে ডাক পাননি তিনি।

সর্বশেষ সেপ্টেম্বরের ব্রাজিল দলে জায়া না পাওয়া প্রসঙ্গে নেইমার বলেছিলেন, ‘আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে টেকনিক্যাল কারণে, এর সঙ্গে আমার শারীরিক অবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা কোচের সিদ্ধান্ত, আমি সেটিকে সম্মান করি।’

সেখান থেকেই প্রশ্নটা উঠতে থাকে, তবে কি ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে দেখা যাবে নেইমারকে? এ প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি স্পষ্ট করেছেন, প্রতিভা বিবেচনায় নয়, বরং ফিটনেসই ঠিক করতে, নেইমার দলে জায়গা পাবেন কি না।

ইএসপিএন ব্রাজিলের সঙ্গে আলাপকালে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘নেইমার কেমন খেলছে, সেটা আমরা বিশ্লেষণ করতে যাচ্ছি না। ওর প্রতিভা সম্পর্কে সবাই জানে।’

ব্রাজিল কোচ যোগ করেন, ‘আধুনিক ফুটবলে ওর প্রতিভার সর্বোচ্চটা ব্যবহার করতে গেলে ওকে ভালো শারীরিক অবস্থায় থাকতে হবে। ও যদি ভালো শারীরিক অবস্থায় থাকে, তাহলে জাতীয় দলে জায়গা পেতে কোনো সমস্যাই হবে না।’

নেইমারের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন আনচেলত্তি। এ প্রসঙ্গে ব্রাজিল কোচ বলেছেন, ‘সবাই চায়, ফিট অবস্থায় নেইমার জাতীয় দলে থাকুক। আমি ওর সঙ্গে কথা বলেছি। ওকে বলেছি, “তোমার হাতে সময় আছে। সেরা প্রস্তুতি নাও আর দলকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করো।”’

জাতীয় দলে ফিরলেও আগে যেমন ওয়াইড ফরোয়ার্ড ও আক্রমণ গড়ে দেওয়া- দুই ভূমিকাতেই খেলতে নেইমার, সেটা এখন পরিবর্তন হতে পারে। আনচেলত্তি জানিয়েছেন, শারীরিকভাবে নেইমার এখন ওয়াইড ফরোয়ার্ড খেলার মতো অবস্থায় নেই।

ব্রাজিল কোচ বলেছেন, ‘আমি ওর সঙ্গে কথা বলেছি। জুনে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ও হোটেলে গিয়েছিল। তখন আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি। সবকিছু পরিষ্কার ভালো বলা হয়েছে। পরিকল্পনাও একই রকম।’

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমার ফিরলে কোন পজিশনে খেলবেন, সেট জানিয়ে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমি ওকে বেছে নেব আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বা স্ট্রাইকার হিসেবে। এখন ওকে কেন্দ্রে থেকে খেলতে হবে। উইং পজিশনে খেলতে পারবে না। কারণ আধুনিক ফুটবলে ফরোয়ার্ডদের শারীরিক সক্ষমতার খুব বেশি প্রয়োজন। তবে মিডফিল্ডে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় সে অনায়াসেই খেলতে পারবে।’

ব্রাজিলের সঙ্গে আনচেলত্তির চুক্তির মেয়াদ আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকতে আপত্তি নেই তাঁর।

অভিজ্ঞ এ কোচ বলেছেন, ‘ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বিশেষ কিছু। এক (সিবিএফের সঙ্গে) এক বছরের চুক্তি করেছি। (২০২৬) বিশ্বকাপের পরও (মেয়াদ বাড়ানোর পথ) সবকিছু খোলা।’

আনচেলত্তি যোগ করেন, ‘তখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী, এক বছরের চুক্তির সিদ্ধান্তই সঠিক মনে হয়েছিল। সিবিএফ চাইলে, এখানে থাকতে আমার আপত্তি নেই। আগেও বলেছি, আমি এখানে ভালো আছি। আমার পরিবারও খুশি। (২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকতে পারলে) সেটা দারুণ হবে।’

HTML tutorial

Leave a Reply