⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

ঝুঁকির মুখে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ আয়োজন

HTML tutorial

পিসিবির চেয়ারম্যানকে সম্মতি দিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বিসিবি। এমনটা ধারণা করা হচ্ছে কারণ এজিএমের ভেন্যু ঢাকাতে হওয়ায় ভারত, আফগানিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা তা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে যদি বাংলাদেশ এশিয়া কাপ আয়োজন না করতে পারে তাহলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুনামও হারাবে বিসিবি।

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলেরও (এসিসি) সভাপতি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। মূলত বিসিবি তার চাওয়াতেই এসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা ঢাকায় আয়োজন করতে রাজি হয়।

এদিকে মহসিনের এই সিদ্ধান্তের পেছনেও যে রাজনীতি আছে, তা জানা ছিলো না বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। তাই সরল বিশ্বাসে এসিসি সভাপতির প্রস্তাব মেনে নিয়ে সংস্থাটির বার্ষিক সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেন তিনি। পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা না করে ঝুঁকিপূর্ণ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশের ক্রিকেট বিভাজনের মধ্যে পড়ে গেছে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা।

বিসিবির একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা না করে মহসিন ঢাকায় এজিএমের ভেন্যু ঠিক করেন। জানা গেছে, বিশ্ব ক্রিকেটের মোড়লখ্যাত বিসিসিআই এজিএম বয়কট করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে। ভারতের সঙ্গে জোট বেঁধে শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং ওমানও ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ২৪ জুলাইয়ের এজিএমে অংশগ্রহণ করতে রাজি হয়নি।

শেষ পর্যন্ত নাকভি ওমানকে রাজি করাতে পারলেও ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের অনুপস্থিতিতে ব্যর্থ হতে চলেছে ২০২৫ সালের এসিসি এজিএম।

এ বিষয়ে বিসিবির একজন পরিচালক জানান, বিশ্ব ক্রিকেটের মোট রাজস্বের সিংহভাগ আসে ভারতের বিজ্ঞাপন থেকে। ভারত ছাড়া এশিয়া কাপ চিন্তাও করা যায় না। তারা খেলতে রাজি না হলে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা সম্ভব হবে না। সেখানে ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তান জোট বেঁধেছে। এই পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে এশিয়া কাপও ঝুঁকির মুখে।

বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘কাউকে কিছু না জানিয়ে এসিসির এজিএম ঢাকায় নেওয়া ঠিক হয়নি। দেশের ক্রিকেটের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। সম্ভবত ভারত আগামী দুই বছর খেলতে আসবে না। বিসিবি তো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।’

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিসিবি কর্মকর্তারা সভাপতিকে অনুরোধ করেছিলেন মহসিনকে অনুরোধ করে এজিএম স্থগিত করার জন্য। কিন্তু বুলবুল তাতে রাজি হননি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে বুলবুলের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। বিসিবি সভাপতি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে আইসিসির বার্ষিক সভায় আছেন।

২৭টি সদস্য দেশ নিয়ে এসিসি গঠিত হলেও প্রভাবশালী সদস্য দেশ পাঁচটি– ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। বাকি ২২টি সদস্য দেশের অংশগ্রহণই বড় কথা। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তিন দেশ সভা বয়কট করার সিদ্ধান্ত বিরাট ধাক্কা।

এশিয়া কাপ না হলে বাংলাদেশ ১০ লাখ ডলার বা ১২ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হবে। যেটাকে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিসিবি কর্মকর্তারা। বিসিসিআই চেয়েছিল আইসিসির এজিএমের সঙ্গে সমন্বয় করে সিঙ্গাপুরে এসিসির এজিএম করতে। সভাপতি মহসিন সেটাকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশকে ভেন্যু নির্বাচন করেন। বাড়তি খরচ করে তাই চারটি বোর্ড এজিএম বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়।

যদিও খরচের চেয়ে এখানে রাজনীতিকেই বেশি প্রভাবক হিসেবে ধরা হচ্ছে। কারণ, এসিসির এজিএম নিজেদের পছন্দের ভেন্যুতেই হয়। ২০২৪ সালে এসিসির সভাপতি থাকাকালে জয় শাহ যেমন ইন্দোনেশিয়ায় আয়োজন করেছিলেন এসিসির বার্ষিক সভা। সেবার আইসিসির সভা হয়েছিল কলম্বোতে।

HTML tutorial

Leave a Reply