নির্বাচন প্রভাবিত করতে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে আনার বক্তব্য দেওয়ায় চট্টগ্রামের সাবেক এমপি ও নগর জামায়াতের সাবেক আমির শাহজাহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। তবে জামায়াত বলছে, বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত মত, দলের অবস্থান নয়। শনিবার চট্টগ্রামে নির্বাচনী সমাবেশে তার একটি বক্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনার পর রোববার বিএনপি ও জামায়াত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে।
শনিবার জিইসি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাচনী সম্মেলনে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। যদিও তিনি দাবি করেন, বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই দেশের স্বার্থে পুলিশকে কাজ করতে হবে—আমি সেটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম। যারা আমার এই খণ্ডিত বক্তব্যকে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান হিসেবে চিহ্নিত করছেন, তারা পক্ষান্তরে ফ্যাসিস্ট শক্তিকেই উসকানি দিচ্ছেন।’
বিতর্কিত বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। তাদের অভিযোগ, এ বক্তব্য নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং এজন্য শাহজাহান চৌধুরীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ‘শাহজাহান সাহেবের বক্তব্য সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তিনি যে ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে নির্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তিনি কার্যত হুমকি দিয়েছেন।’
তবে দল হিসেবে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের দায় নিতে নারাজ জামায়াত। দলটি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, বক্তব্যটি একান্তই ব্যক্তিগত। নির্বাচনে প্রশাসন পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলেই তাদের আশা।
দলটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বক্তব্যটি আমরা দেখেছি। এটি পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত মত। এর ব্যাখ্যা তিনিই ভালো দিতে পারবেন। জামায়াত এই বক্তব্য সমর্থন করে না। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং অভ্যন্তরীণভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, প্রশাসন পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। অতীতে যারা তা করেননি, তারা দেশের ক্ষতি করেছেন।’
শাহজাহান চৌধুরীর মন্তব্যকে ঘিরে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করে।

















