ভোলা সংবাদদাতা :
ভোলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। হাসপাতালটিতে ৬১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২১ জন। এর মধ্যে দুজন রয়েছেন প্রশাসনিক দায়িত্বে। ফলে চিকিৎসাসেবা কার্যত চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ এবং রোগনির্ণয় বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা। আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও রোগীদের আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যানসহ নানা পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে। এমনকি অনেক সময় রোগী এলেই পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ কিংবা ঢাকায়।
একজন রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তারের দেখা মেলে না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই প্রাইভেট ক্লিনিকে যাই।’
২০১৬ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেয়া হয়। প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয় আধুনিক আটতলা ভবন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন হাসপাতালটি। তবে তিন বছরেও পুরোপুরি চালু হয়নি নতুন ভবনের কার্যক্রম। ব্যবহারের অভাবে অনেক যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে গেছে। সচল যন্ত্রপাতিগুলো চালানোর মতো পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ানও নেই।
হাসপাতালে ৬১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ৪০টি পদ ফাঁকা। ৯৩ জন নার্সের জায়গায় আছেন ৫৭ জন। রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন, রেজিস্ট্রার ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পদ শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
রোগীদের অভিযোগ, ‘হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়া ছাড়াও অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা রোগীদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেন। দুপুরের পর ডাক্তারদের দেখা মেলে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।’
ভোলাবাসীর দাবি, দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা হিসেবে ভোলার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
ভোলা সিভিল সার্জন ডা. মু. মনিরুল ইসলাম জানান, ‘শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত নিয়োগ মিলবে।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ সুফিয়ান রুস্তম বলেন, ‘বর্তমানে যে ক’জন চিকিৎসক ও জনবল আছেন, তারা জরুরি ও বহির্বিভাগ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। যথাযথ জনবল পেলে অন্তর্বিভাগেও মানসম্পন্ন সেবা দেয়া সম্ভব হবে।’

















