পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তি আজ। এই চুক্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তাই এই চুক্তি বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপ ও কার্যকর রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতাদের। চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও রাজনৈতিক উদাসীনতার অভিযোগ করে নতুন গণতান্ত্রিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।
স্বাধীনতার পর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলে কয়েকটি গোষ্ঠী নিজেদেরকে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তোলে। স্বায়ত্তশাসন, নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো ও ভূমি নিয়ন্ত্রণের বিশেষ অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার হয় তারা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের মানবাধিকার ও যুগ্ম-সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, পাহাড়ে সহিংসতা মোকাবিলায় অসংখ্যবার কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়েছে বিভিন্ন সময়ের সরকারকে। সেনাবাহিনী, পুলিশসহ পাহাড়ি-বাঙ্গালির রক্তে অসংখ্যবার রক্তাক্ত হয়েছে পার্বত্য অঞ্চল। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয় ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি। তবে চুক্তির ২৮ বছর পরও এটিকে প্রহসন বলে আখ্যা দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে দাবি তুলে ধরেন নেতারা।
মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষক শামসুল হুদা বলেন, একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি হলে পাহাড়ে শান্তি ও গণতন্ত্রের পথ সুদৃঢ় হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ, জাতীয় সংলাপ এবং নতুন গণতান্ত্রিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই চুক্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত বলে মনে করেন সমাজ বিজ্ঞানীরা।

















