⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

ভোটে অনিয়ম, ইসিতে ২৬ প্রার্থীর অভিযোগ

HTML tutorial

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ ও আপত্তি তুলেছেন হেরে যাওয়া প্রার্থীরা। ভোটে অনিয়ম, টাকা দিয়ে ভোট কেনা, কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের প্রভাব বিস্তার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আসনগুলোর ফলাফল স্থগিত ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইসি সূত্রে জানা যায়, ভোট পরবর্তী চার দিনে ২৬ জন প্রার্থী ইসিতে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন। এরমধ্যে ১৩ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ, ভোটের পরের দিন ১৪ জন ও গতকাল শনিবার আরও ১২ প্রার্থী ইসিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে অভিযোগ আরও বাড়তে পারে বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা। কারণ ভোটের পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার ছিল সরকারি ছুটি।

শনিবার সকালে ফলাফল স্থগিত ও পুনর্নির্বাচন চেয়ে ইসিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শেরপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী আসনটিতে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৫২১ ভোট। তবে ভোটের এ ব্যবধান পরিকল্পিত বলে জানান সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, শেরপুর-১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের আগের দিন রাতে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, জাল ভোট প্রদান ও ভোট কারচুপি করা হয়েছে। জামায়াত সমর্থিত প্রিসাইডিং অফিসাররা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে যড়যন্ত্র করে কেন্দ্রে প্রাপ্ত ফলাফলকে পাল্টিয়ে জামাতের বিজয় নিশ্চিত করে ফলাফল প্রস্তুত করে প্রকাশ করেন। ভোট গণনায় প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক কেন্দ্রে গণনাকৃত ফলাফল ও রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক প্রচারিত ফলাফল অভিন্ন নয়। ফলাফল জালিয়াতির মাধ্যমে জামায়াত সমর্থিত রিটার্নিং অফিসার পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করেছেন। রিটার্নিং অফিসার পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা দিয়েছেন। যার কারণে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শেরপুর পৌরসভা ও ইউনিয়নের অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের অবস্থানকালে ধানের শীষের পুরুষ ও মহিলা সমর্থকদের অমানুষিকভাবে বিনা কারণে লাঠিচার্জ করে কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তারা কেউ পরবর্তীতে ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেননি, অনেকেই আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা সময়ের আলোকে বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে জামায়াত সমর্থিত রিটার্নিং অফিসারের প্রত্যক্ষ মদদে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ভোট জালিয়াতি ও ভোট কারচুপি করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে শেরপুর সদর-১ আসনে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হয়নি। শেরপুর জেলার জাতীয় পার্টি কোনো কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্ট দেয়নি, কিন্তু বেশ কিছু ভোটকেন্দ্রে জাতীয় পার্টির ভুয়া পোলিং এজেন্ট পাওয়া গিয়েছে যার যথেষ্ট প্রমাণ ভিডিওসহ রয়েছে। নির্বাচনের আগে ভোটারদের মাঝে খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে ব্যাপকভাবে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোটের ওয়াদা করিয়ে গরিব মানুষদের সরাসরি টিসিবির কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে, গতকাল শনিবার দুপরে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেন ঢাকা-১৩ আসনের (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। অভিযোগ জমা দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত মতের প্রতিফলন হয়নি। ফলের ব্যবধান ২ হাজারের মতো হলেও ভোটের ব্যালটে প্রতীকগুলো পাশাপাশি হওয়ায় ৪ হাজারের বেশি ভোট বাতিল হয়। অনেক কেন্দ্রে রেজাল্ট শিটে পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারসহ কারচুপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, বেশ কিছু কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছিল। অনেক রেজাল্ট শিটে পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর না নিয়েই বের করে দেওয়া হয়। আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোট গণনার সময় অন্য এজেন্ট দেওয়া হয়। কিছু কিছু জায়গায় পোলিং এজেন্ট থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও পরে তা আবার কাটছাঁট করা হয়। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-১৩ আসনের ভোট ব্যালটে ৯ প্রার্থীর প্রতীক আলাদা কলামে থাকলেও পাশাপাশি হওয়ায় ভোটার বিভ্রান্ত হয়েছে। তাই একই সঙ্গে ৪ হাজারের বেশি ভোট বাতিল হয়েছে। এটা ইসির ভুল, এ দায় আমার ভোটাররা নেবে না। সবকিছু বিবেচনায় নিলে আমার ধারণা ৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধান হবে। অভিযোগ আমলে না নিলে সে ক্ষেত্রে প্রথমে আদালত ও পরে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর অগে ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত চেয়ে ইসিতে লিখিত অভিযোগ দেন রাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম আকবর আলী। উল্লাপাড়া আসনের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে ব্যাপক অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত রেখে প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) রুহুল আমিন মল্লিক সময়ের আলোকে বলেন, ইসির ডেসপাস শাখায় প্রার্থীরা অভিযোগগুলো জমা দিচ্ছেন। এগুলো পরবর্তীতে কমিশনে তোলা হবে। তবে অভিযোগের সঙ্গে অবশ্যই জোরালো প্রমাণ থাকতে হবে। তা হলে সেটি আমলে নিয়ে তদন্ত দেবে কমিশন। আর যদি অন্তঃসারশূন্য কোনো অভিযোগ দেয় তা হলে তো সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে।

HTML tutorial

Leave a Reply