ঢাকা অফিস :
বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিন বারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন আজ ১৫ আগষ্ট । একজন দেশপ্রেমিক গনতন্ত্রকামী আপোষহীন নেত্রী হিসেবে দেশে বিদেশে তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সুনাম।
নানা আয়োজনে বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালন করছে।
১৯৪৫ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
গৃহবধূ থেকে সময়ের দাবি মেনে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া এই নেত্রী দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। এরপর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নানা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে যেমন সরকার পরিচালনা করেছেন, তেমনি বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবেও সক্রিয় থেকেছেন। শেখ হাসিনাসহ দেশের প্রথম সারির নেতা-নেত্রীরা যখন ভারতপন্থী, পাকিস্তানপন্থী, মার্কিনপন্থী, চীন-মস্কোপন্থী হিসেবে নিজেদের জাহির করতে অভ্যস্ত হন; তখন তিনি বাংলাদেশপন্থী নেত্রী হিসেবে সুপরিচিতি পান। তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা যখন দিল্লির সেবাদাসী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন; তখন তিনি বলেছিলেন, ‘দেশের বাইরে আমার কোন ঠিকানা নেই; এই দেশ, এই দেশের মাটি-মানুষই আমার সবকিছু’। এ জন্যই বিএনপির নেতৃত্ব দিলেও তিনি দেশে দল-মত নির্বিশেষে সর্বমহলে সমাদৃত।
দেশের শীর্ষ নেতা-নেত্রীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যতবার, যতগুলো আসনে প্রার্থী হয়েছেন; প্রত্যেকবার ততগুলো আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এ রেকর্ড দেশের আর কারো নেই। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বহুবার জেল-জুলুমের মুখোমুখি হয়েছেন। তবুও আপস না করে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন, যা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
গত বছর ৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের পর তিনি কারাবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বেগম জিয়া। তার চিকিৎসা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার পাশাপাশি বিদেশে চিকিৎসার অনুমতির বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে।
বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতে, খালেদা জিয়া শুধু দলের নেত্রী নন, তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের প্রতীক। আজ তার জন্মদিন উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত রাখা হলেও দলীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রাজনীতিতে শালীনতা, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের কারণে তিনি দেশের মানুষের কাছে এখনও প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত।
খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দেশ-বিদেশে তার সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন তার সমর্থকরা।

















