মোটরসাইকেল নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডায় পঞ্চগড়ে সাংবাদিদের সঙ্গে শাসালেন জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এরই মধ্যে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে জড়ানো ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম মো. তাহমিদুর রহমান। পরে আওলিয়ার ঘাটসহ মহালয়া উৎসবের দায়িত্ব থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, আওলিয়ার ঘাটে ভয়াবহ নৌকাডুবির তিন বছর পূর্তি ও বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠান উপলক্ষে পাঁচ-ছয়জন সংবাদকর্মী সংবাদ সংগ্রহ করতে যাচ্ছিলেন। এসময় করতোয়া নদীর ঘাটে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদুর রহমান সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল নিয়ে নদী পার হতে বাঁধা দেন। সে সময় নদীতে তিন থেকে চারটি নৌকা চলাচল করছিল এবং নৌকায় মোটরসাইকেল নিয়েও যাত্রীরা পারাপার হচ্ছিলেন। ‘অন্যরা মোটরসাইকেল পার হলে, সংবাদকর্মীরা কেন নিউজের কাজে যেতে পারবে না’—সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে ক্ষিপ্ত হন তাহমিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনি আল জাজিরা, বিবিসি বাংলা আর আর্ন্তজাতিক সাংবাদিক হন আর যেই সাংবাদিক হন, তাতে আমার যায় আসে না। যেতে পারবেন না।’ তাঁর এমন আচরণ সাংবাদিকেরা ক্যামরায় রেকর্ড করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের কার্যক্রম সন্ত্রাসীদের মত।’ শতাধিক লোকের সামনে এমন আচরণের ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এনিয়ে ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি নূর হাসান বলেন, ‘আমরা মহালয়ার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে বাঁধা দেন। ঘাট ফাঁকা ছিল এবং অন্য ব্যক্তিদের দেখা যায় মোটরসাইকেল নিয়েই নৌকা পার হচ্ছেন। ইউএনও নিজেও নৌকায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘাট পারাপার হচ্ছিলেন। তাহলে সাংবাদিকদের যেতে বাধা কেন?’
বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের সাংবাদিক পরিচয় শুনে রেগে গিয়ে বলেন, ‘আল জাজিরা সাংবাদিক হন যে সাংবাদিক হন, যেতে পারবেন না।’
এদিকে, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সাংবাদিকেরা তাঁকে বিষয়টি জানান। তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
জেলা প্রশাসক সাবেত আলী সাংবাদিকদের বলেন, ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে আউলিয়ার ঘাটের সার্বিক কার্যক্রমের দায়িত্ব থেকে ফেরত আনা হয়েছে।

















