রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এসময় শিক্ষক কর্মকর্তারা বলেন, হামলাকারীরা শিক্ষার্থী নামধারী সন্ত্রাসী। তাদের এই ক্যাম্পাসে থাকার কোনো এখতিয়ার নেই। হামলাকারীদের ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করতে হবে। শিক্ষার্থী নামধারী সন্ত্রাসীদের এমন কর্মকাণ্ডে শিক্ষকদের নিরাপত্তাও শঙ্কায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় না নিয়ে আসা পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এসময় তাঁরা বলেন, কমপ্লিট শাটডাউন ও পাঠদান কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর কমপ্লিট শাটডাউন ও পাঠদান কর্মসূচির কারণে সংশয় তৈরি হয়েছে নির্ধারিত সময়ে রাকসু নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে। তবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরেই নির্বাচনের আশা কমিশনের।
শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা—পোষ্য কোটা ইস্যুতে শনিবার বিকেল থেকে উত্তাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উপ-উপাচার্য লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার থেকে কর্মবিরতি শুরু করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। কাজে যোগ দেননি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শিক্ষক কর্মকর্তা–কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলমান থাকলে রাকসু নির্বাচন হবে কি না এ নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। প্রার্থীরা আগ্রহ হারিয়েছেন নির্বাচন নিয়ে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও কমে গেছে। আবাসিক হলগুলো থেকে এরই মধ্যে বাড়ি চলে গেছেন অনেকেই।
রোববার বিকেলে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় উপ উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন হয়। সেই সাথে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ‘শনিবার বিকেলে জুবেরি ভবনে উপ-উপাচার্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে সিন্ডিকেট সভায়। রাকসু নির্বাচন ২৫ সেপ্টেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবর্ষের ভর্তিতে শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তির বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা (পোষ্য কোটা) আপাতত স্থগিত থাকবে।’

















