বিশেষ প্রতিনিধি :
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার শালমারা গ্রামে দাফনের জায়গা না থাকায় মেয়ের বসতঘরের ভেতরে দাফন করা ৭০ বছর বয়সী করিম মিয়ার কবর বিষয়টি প্রতিদিনের চিঠিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর প্রশাসন ওইঘর থেকে করিম মিয়ার মরদেহ অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা করিম মিয়া একসময় আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলেও চিকিৎসা করতে জমিজমা সব বিক্রি করে সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েব। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এক মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে রয়েছে। অপর কৌতুলী বেগম ও ছেলে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। মেয়ে কৌতুলী বেগম তিন শতাংশ জমি ক্রয় করে একটি ঘর নির্মাণ করে। সেই ঘরেই বাবা করিম মিয়া ও মা সাজেদা বেগম (৬০)কে আশ্রয় দেয়। অসুস্থ করিম মিয়া গত ২৫ অক্টোবর রাতে মারা যায়।
দাফনের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় ২৬ অক্টোবর মেয়ের বসতঘরের ভেতরেই একপাশে কবর দেওয়া হয় ৭০ বছর বয়সী করিম মিয়াকে। আরেক পাশে আশ্রয় নেয় তার স্ত্রী সাজেদা বেগম।
এ বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিনে নজরে আসলে ওই এলাকায় একটি সামাজিক গোরস্থান করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এলাকার কয়েকজন সহায়তার হাত বাড়ান৷ দান করেব জমি। আর সেখানেই করিম মরদেহ স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন করিম মিয়া পরিবার ও এলাকাবাসীর সম্মতিতে ২৭ অক্টোবর সন্ধায় করিম মিয়ার মরদেহ ওই ঘর থেকে উত্তোলন করে নতুন সামাজিক গোরস্থানে দাফন করেন।
নিহত করিম মিয়ার মেয়ে কৌতুলী বেগম বলেন, আমার বাবাকে আমার ঘরেই মাটি দিছিলাম। আমার কাছেই রাখছিলাম। প্রশাসনের লোক আইছে। এহন নিতেছেগা। এই জায়গা যেন তারাতাড়ি সরকারের নামে নেইখা দেয়। করিম ছেলে বলেন, জায়গাজমি নাই তাই ঘরে মধ্যেই কবর দিছিলাম বাবারে। সামাজিক গোরস্থানে নিতাছেগা তাতে আমাদের আপত্তি নাই।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা আহাম্মেদ বলেন, আমাদেরকে কেউ বিষয়টি অবগত করে নাই। বিষয়টি জানার পর ডিসি স্যারের নির্দেশে আমরা লাশ স্থানান্তর করলাম। এলাকার লোকজনও সামাজিক গোরস্থান করার জন্য জমি দান করেছে।
জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমার নলেজে আসার সাথে সাথে ব্যাস্থা করা হয়েছে। অসহায় পরিবারটিকে আমরা সহায়তা প্রদান করার চেষ্টা করছি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে।

















