⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

বন্ধ হওয়ার পথে শেরপুরের উত্তরা হাসপাতাল ॥ ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এমডির বিরুদ্ধে ॥ বিপাকে শতাধিক কর্মচারী

HTML tutorial

বিশেষ প্রতিনিধি :
আভ্যন্তরিন দ্বন্ধের জেরে শেরপুর জেলা শহরের গৌরীপুর মহল্লায় অবস্থিত জেলার অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উত্তরা স্পেশালাইজড প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান কর্ণধার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোবায়ের রহমান বিপ্লবের বিরুদ্ধে অন্তত ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা, কর্মচারী, অংশীদার, বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অপরদিকে ষড়যন্ত্র করে হাসপাতাল জবরদখলের অভিযোগ করেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোবায়ের রহমান বিপ্লব। তার অভিযোগ পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গোষ্ঠিকে নানা সময় প্রায় কোটি টাকা চাদাঁ দিয়েছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় হাসপাতালটিকে জবর দখল করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রোগীসহ শতাধিক কর্মচারী বিপাকে পড়েছেন। বিবদমান দুই পক্ষই সাংবাদিকদের কাছে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ করেছেন।
তবে হাসপাতালটি বন্ধ না করে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা চালু রেখেছেন কর্মচারী ও চিকিৎসকেরা। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, চেম্বার অব কমার্স, হাসপাতাল মালিক সমিতি, আইনজীবী সমিতি ও প্রেসক্লাবকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার কর্মচারীদের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের নিকট নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, শেরপুর জেলা শহরের সজবরখিলা এলাকায় উত্তরা স্পেশালাইজড প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালটি প্রধান উদ্যোক্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোবায়ের রহমান বিপ্লব ২০১৮ সালে কয়েকজন চিকিৎসক, একাধিক বিনিয়োগকারী ও অংশীদারদের নিয়ে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পরেই দ্রুতই প্রসার ঘটে। ফলে জেলার একটি বিরাট অংশের মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে পরিনত হয়ে ওঠে এ বেসরকারী হাসপাতালটি। এরইমধ্যে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে হাসপাতালের শেয়ার দেয়া বা নির্দিষ্ট অংকের টাকা লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলে টাকা গ্রহণ করেন হাসপাতালের প্রধান কর্ণধার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোবায়ের রহমান বিপ্লব। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকা গ্রহণ করেছেন তিনি। এছাড়াও ২০২৫ সালে বিপ্লব কাউকে না জানিয়ে নিজের ও পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করেন। এরপর থেকেই কর্মচারীদের বেতন, অংশীদারদের লভ্যাংশ ও বিভিন্ন পাওনা পরিশোধে জটিলতা দেখা দেয়। প্রতিষ্ঠানে এক চেটিয়া প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন বিপ্লব। এতে আভ্যন্তরিন দ্বন্ধ দেখা দেয়। পাওনাদারেরা টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে একটি সমঝোতা বৈঠক হওয়ার কথা ছিলো। বৈঠকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোবায়ের রহমান বিপ্লব, হাসপাতালের কর্মচারী, অংশীদার, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য পাওনাদাররা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। এতে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে হাসপাতলটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে দ্রুতই হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীরা নিজ উদ্যোগে হাসপাতালটি কার্যক্রম চালু রাখেন।
সংকটকালীন হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডা. মবিনা ফেরদৌস বলেন, “কর্মচারী ও রোগীদের স্বার্থে হাসপাতাল খোলা রাখা হয়েছে। তিনি (যোবায়ের রহমান বিপ্লব) ফিরে এলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
এ বিষয়ে হাসপাতাল জবর দখলের অভিযোগ করে যোবায়ের বিপ্লব বলেন, গত দুই বছরে আমি অন্তত কোটি টাকা চাদাঁ দিয়েছি। একটি মহল বারবার আমার হাসপাতলটি জবরদখল করার চেষ্টা করছেন। কিছু লোক আমার কাছে টাকা পাবেন। আমি তাদেরকে শর্তানুযায় লভ্যাংশ দিয়ে আসছি। আমি পাপ্পু নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে জমি ক্রয়ের জন্য ৮০ লাখ টাকা দিয়েছি। ওই টাকাও দিচ্ছেনা। জমিও লিখে দিচ্ছেনা। জোর করে আমার হাসপাতাল জবর দখল করার জন্য আমাকে মাইরপিট করে হাসপাতল থেকে বের করে দিয়েছে। আমি হাসপাতালে গেলেই আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি থানায় জিডি করেছি। আমার লোকজন দিয়ে আমার হাসপাতাল আমি চলাবো, অন্যরা হাসপাতাল দখল করেছে। এতে আমার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। পাওনাদারেরা ইচ্ছে করলে আদালতেও যেতে পারেন।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি কায়ছার আহাম্মেদ ফারুক ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মহসিন কবির মোরাদ বলেছেন বিপ্লবের অভিযোগ অবান্তর। পাওনাদারদের টাকা না দিয়ে তিনি গাঢাকা দিয়েছেন। বিপ্লব আমাদের সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতা এবং আসলে সবাই বসে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করা যেত। কিন্ত তিনি ফেইসবুকে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন।
সরজমিনে গিয়ে হাসপাতাল দখল হয়ে যাওয়ার কথা জানেনা স্থানীয়রা। তবে অনেক পাওনাদার হাসপাতলে টাকার জন্য ঘুরছে। প্রতিষ্ঠানে বিপ্লবের কামড়া ও চেয়ার সুরক্ষিত আছে।
শেরপুরের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে; হাসপাতালটি চালু রয়েছে এবং বিপ্লব অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বর্তমানে অনুপস্থিত। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

HTML tutorial

Leave a Reply

08 October 2026

বন্ধ হওয়ার পথে শেরপুরের উত্তরা হাসপাতাল ॥ ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এমডির বিরুদ্ধে ॥ বিপাকে শতাধিক কর্মচারী

www.protidinerchithi.com