গত শনিবার প্রীতি ম্যাচে সেনেগালকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ব্রাজিল। আফ্রিকার দেশটির বিপক্ষে প্রথমবার জয়ের সে ম্যাচে দাপট দেখানোর পাশাপাশি সুন্দর ফুটবল উপহার দিয়েছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। আরেকটা বিশ্বকাপ যখন ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে, ব্রাজিলের এমন পারফরম্যান্স দলটির সমর্থকদের স্বস্তির কারণ হওয়ার কথা!
কিন্তু তিন দিনের ব্যবধানে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখেছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিল যেমন ফুটবল খেলেছে, তাতে আনচেলত্তির পাশাপাশি সমর্থকদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়ার কথা! গতকালের প্রীতি ম্যাচে ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোরা যেন অগোছালো আর উদ্দেশ্যহীন ফুটবল খেলার প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন!
ব্রাজিলের খেলা দেখে গতকাল ‘ব্রাজিলসুলভ’ মনে হয়নি! বরং মাঝেমধ্যে মনে হয়েছে, ভুল করে বোধহয় ব্রাজিলের জার্সিগায়ে নেমে পড়েছে তিউনিসিয়া! নয়তো এমন হতশ্রী ফুটবল কীভাবে খেলতে পারে ব্রাজিল!
শুরুতে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল যদিও শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে, তবে সমতাসূচক গোলটাও ছিল পেনাল্টিতে। এস্তেভাওয়ের ওই পেনাল্টি গোলের পর শেষ দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচের দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি লুকাস পাকেতা।
পাকেতার নেওয়া ওই পেনাল্টি শটটাই যেন ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিচ্ছবি। ম্যাচে বল পায়ে একচ্ছত্র দাপট দেখানো ব্রাজিল (৭৪%) গতকাল শট নিয়েছিল ২২টি, এর মোটে ৩টি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে। ভিনিসিয়ুস-এস্তেভাওদের বাকি সব শটই ছিল অনেকটা উদ্দেশ্যহীন। গোলপোস্টের অনেক অনেক বাইরে দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
বল পায়ে তেমন স্বচ্ছন্দে না থাকলেও প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার প্রতিআক্রমণে ব্রাজিলকে কাঁপিয়ে দিয়েছে তিউনিসিয়া। তেমনি একটি আক্রমণে প্রথম গোলের দেখা পায় দলটি। ২৩ মিনিটে বাঁপ্রান্ত থেকে আলী আবদির বাড়ানো বল ব্রাজিল বক্সের ভেতর অনেকটা ফাঁকায় পান হাজেম মাসতৌরি। সেখান থেকে কোনাকুনি শটে তিউনিসিয়াকে এগিয়ে দেন ২৮ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার।
গোল হজম করে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ব্রাজিল আক্রমণের ধার বাড়ায় ঠিকই। কিন্তু তিউনিসিয়া বক্সে গেলেই কেমন যেন ধারহীন হয়ে পড়ছিল ভিনিসিয়ুসদের আক্রমণ। এরপরও বিরতির আগে সমতায় ফেরে আনচেলত্তির দল।
তিউনিসিয়ার বক্সে দলটির ডিফেন্ডার ডাইলান ব্রুনের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে ব্রাজিল। ভিএআর যাচাই করে সেলেসাওদের পক্ষে রায় দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে জালে বল জড়িয়ে ব্রাজিলকে সমতায় (১-১) ফেরান এস্তেভাও।
জাতীয় দলের জার্সিতে ১১ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ৫টি গোল করলেন এস্তেভাও। মজার বিষয়, ১৮ বছর বয়সী এ রাইট উইঙ্গার ৫টি গোল করেছেন সর্বশেষ ৬ ম্যাচেই!
বিরতির পর ব্রাজিলের খেলা তুলনামূলক সংগঠিত মনে হলেও আর কোনো গোল আদায় করতে পারছিল না দলটি। এর মধ্যে ম্যাচের শেষ ভাগে গিয়ে আরেকবার পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। তবে ৭৬ মিনিটে নেওয়া সেই পেনাল্টি বারের ওপর দিয়ে মেরে দেন পাকেতা। এতে জয় ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হয় আনচেলত্তির দলকে।

















