- ঢাকা অফিস :
আজ জানা যাবে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মামলার রায়ের তারিখ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ তারিখ ঘোষণা করবে। এ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতার অবকাশ নেই বলে আবারও নিশ্চিত করেছে প্রসিকিউশন। তারা জানান, আওয়ামীলীগ যতষড়যন্ত্রই করুক বিচার বাধাগ্রস্ত করতে পারবেনা।
গত ২৩ অক্টোবর মারণাস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ ও হত্যায় উসকানিসহ সুনির্দিষ্ট ৫ অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পলাতক স্বারষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সকল বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় । এরপর থেকে ট্রাইব্যুনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলাটি রয়েছে রায়ের অপেক্ষায়।
বৃহস্পতিবার রায়ের তারিখ ঘোষণা করার কথা ট্রাইব্যুনাল–১ এর। প্রসিকিউশন জানায়, রায় কবে ঘোষণা করবে তা নির্ভর করছে আদালতের ওপর। তবে সকল বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ায় শিগগির রায় ঘোষণা হতে পারে। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের প্রত্যাশা প্রসিকিউশনের।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এম এইচ তামিম বলেন, ‘১৩ নভেম্বর মামলার নির্ধারিত তারিখ। ওই দিন ট্রাইব্যুনাল জানাবে, কবে রায় ঘোষণা হবে। ইনু সাহেব, তাপস সাহেব ও মাকসুদ কামাল সাহেবের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের অডিও, ভিডিও ও নথিপত্র আমরা আদালতে জমা দিয়েছি। এ ধরনের কনক্রিট প্রমাণ বিশ্বের অল্প কয়েকটি মামলাতেই দেখা গেছে। শুধু বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল নয়—যে কোনো আন্তর্জাতিক আদালতে এই মামলার প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম।’
শেখ হাসিনার বিচার বাধাগ্রস্ত করতে ১৩ নভেম্বর কর্মসূচি দিয়ে আওয়ামী লীগ নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে জানিয়ে প্রসিকিউটররা বলেন, এতে আদালতের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আরেক প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এটাকে ন্যায়বিচারের প্রতি হুমকি মনে করি না। তবে এটা স্পষ্ট যে, তারা বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চেষ্টা করছে। বিচার স্বচ্ছ ও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। সরকারের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডার অংশ হিসেবেই তারা এসব করছে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধে নিজের বিচার সম্পর্কে শেখ হাসিনা ভারতে বসে নানা অভিযোগ করলেও তা ভিত্তিহীন জানিয়ে প্রসিকিউশন বলছে, আসামির বাবার সময়ে করা আইনেই উন্মুক্ত আদালতে তার বিচার করা হয়েছে।

















