⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

দিল্লি হস্তশিল্পের হাটে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৩০টি দোকান

HTML tutorial

দিল্লির জনপ্রিয় হস্তশিল্প বিপণি কেন্দ্র দিল্লি হাটে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাতে  আগুনে প্রায় ৩০টি দোকান পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৪টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। তবে কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস) জানিয়েছে, রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় তারা। প্রথমে একটি দোকানে আগুন দেখা গেলেও তা দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানায়, তারা আরও ১০ মিনিট আগে—সাড়ে ৮টার দিকে—পিসিআর কলের মাধ্যমে আগুনের খবর পায়। প্রাথমিকভাবে ২৪টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইল ভিডিওতে দেখা যায়, হাটের পেছনের দিকে প্রচণ্ড ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। দ্রুতই পুরো এলাকা খালি করে ফেলা হয়।

দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার উপকমিশনার সুরেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকা খালি করা হয়। ভাগ্যক্রমে কোনো হতাহত হয়নি। পুলিশ ও দমকল বাহিনী এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছে। কীভাবে আগুন লাগল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারাওয়াল নগরের এমএলএ কপিল মিশ্র সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি বলেন, ‘দিল্লি হাটে লাগা আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে। কেউ হতাহত হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে কাজ করছে। আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।’

পরবর্তীতে দিল্লি হাট পরিদর্শন করে কপিল মিশ্র দোকান মালিকদের সান্ত্বনা দেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমেই ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেওয়া হবে। আগামীকাল ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রায় ২৬টি দোকান পুড়ে গেছে। আমরা আপনাদের পাশে থাকব, দোকান পুনঃস্থাপন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে কীভাবে আগুন লাগল এবং তা নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত হবে।’

মিশ্র দোকানিদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং বলেন, ‘এই দুঃসময়ে আপনারা যে ধৈর্য ও সাহস দেখিয়েছেন, তা অনুকরণীয়।’

এদিন দুপুরেও দিল্লির গাঁধীনগরের একটি কাপড়ের দোকানে আগুন লাগে। ডিএফএস জানায়, দুপুর ২টা ৫ মিনিটে আগুনের খবর আসে। আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে আরও দুটি দোকানে। ঘন ধোঁয়ার কারণে আগুন নেভাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

এই ঘটনায়ও কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। গাঁধীনগর থানায় অবহেলার ধারায় একটি মামলা হয়েছে।

এর আগে রোববার বাংলা বস্তির জুগগিতে ভয়াবহ আগুনে দুই শিশু নিহত ও একজন আহত হন। সেখানে প্রায় ৪০০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের প্রধান অতুল গর্গ এক্স-এ লেখেন, ‘শ্রীনিকেতন অ্যাপার্টমেন্টের পাশের বাংলা বস্তিতে আমাদের কাজ করার সময় স্থানীয় জনতা বেশ ক্ষুব্ধ ছিল। আমাদের সদস্যরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে।’ তবে স্থানীয়রা দাবি করেন, দমকল বাহিনী অনেক দেরিতে পৌঁছায়।

দমকল বাহিনী জানায়, সরু গলির কারণে এবং আশপাশে উঁচু প্রাচীর থাকায় গাড়িগুলো প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে আগুন নেভাতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর মোট ২০টি ইউনিট সেখানে পাঠানো হয়।

এই ঘটনার পর দিল্লিজুড়ে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

HTML tutorial

Leave a Reply