রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে নগরীর হজোর মোড় এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। আটকের পর মারধর করে তাকে নগরীর চন্দ্রিমা থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পিটুনির শিকার সাবেক এই এসআইয়ের নাম মাহবুব হাসান (৩৫)। তার বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের বহু অভিযোগ আছে। একটি চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, চাকরিতে থাকাকালে বিভিন্ন জনকে হয়রানি চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্ত মাহবুব হাসান। ভয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। শনিবার রাতে এলাকায় পেয়ে স্থানীয়রা তাকে ধরে মারপিট করে পুলিশের কাছে তুলে দেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তি হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন এসআই মাহবুব হাসান সাদা পোশাকে মাসুদ রানার বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে রাজীব আলীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে শিমলা বাগানে তুলে নিয়ে যান। এরপর মাসুদ রানাকে ফোন করে জানানো হয়—তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে রাজীবকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। টাকা নেওয়ার পর রাজীবকে পর দিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ করেন রাজীব।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হাসানের বিরুদ্ধে পুলিশের অভ্যন্তরীণ শাস্তি হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি মামলা আছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

















