টানা ৩ দিনের ভারী বৃষ্টি আর ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে সদর বাজারসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টার দিকে নদীর বাঁধ ভেঙে নদীর তীরবর্তী অন্তত তিনটি ঘর ভেঙে গেছে। এতে অসহায় হয়ে পড়েছেন মহারশী নদী পাড়ের মানুষ।
এ সময় ঝিনাইগাতী উপজেলার সদরের পূর্ব খৈলকুড়া গ্রামের রহিম, শফিকুল, সাদেক, সাত্তার মিয়া, বাচ্চু মিয়ার ঘর ঢলে ভেঙে যায়। এ ছাড়াও সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে ধানশাইল ইউনিয়নের কাড়াগাঁও-ধানশাইল সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
সদর ইউনিয়নের খৈলকুড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত সাত্তার জানান, আমি গরিম মানুষ কাম করে খাই। কোন জিনিস বাইর করবার সময় পায় নাই। কয়দিন আগে বাধ করলো কিন্তু আমাগো বাড়ির দিক আইসা আর বাধ করলো না। বলে বাজেট নাই। আমরা নিজেরা কয়ডা মাডি দিছিলাম।
রহিম মিয়া বলেন, যেবার ঢল আহে আমাগো বাড়িঘর ভাসায়া নিয়া যায় আর ক্ষতি করে। কোনো রকমে খাটটা আর শোকেসটা বের করছি। আর কিছুই বের করতে পারি নাই। এহন তো বউ পোলাপান নিয়া রাস্তায় দিন কাটান লাগবো।
এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমির মধ্যে ৯৯ শতাংশ ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইগাতী উপজেলায় রোপা আমন আবাদের নিম্নাঞ্চলের কিছু জমির ফসল প্লাবিত হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল জানান, দুপুর থেকে বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেচ্ছাসেবীদের নিয়ে মিটিং করে তাদেরও প্রস্তুত রেখেছি।

















