⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যু, এসআই গ্রেপ্তার

HTML tutorial

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পুলিশ হেফাজতে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলায় পুলিশের এক উপ–পরিদর্শককে (এসআই) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত রোববার রাতে উপজেলার ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে পুলিশ হেফাজতে মারা যান মো. আব্দুল্লাহ (২৩)। তিনি জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মো. আবুল হোসেনের ছেলে।

এ ঘটনায় আব্দুল্লাহর বড় ভাই শাকিল মিয়া বাদী হয়ে ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. মহিম উদ্দিনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলায় আসামি হওয়ার পর এসআই মো. মহিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলেন নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জের বাড়াইলের তবি মিয়া (৩৪), একই গ্রামের আল আমিন (৩২), বাঞ্ছারামপুরের বাহেরচরের আয়নাল হক (৩০)।

এ ঘটনায় থানায় হওয়া মামলার অভিযোগ, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জের তবি মিয়ার বাড়িতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাত চোর তার বাড়ি থেকে নগদ ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তবি মিয়ার আত্মীয় নবীনগর থানায় একটি অভিযোগ দেন।

জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তবি মিয়া, আল আমিন ও আয়নালসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫জন আব্দুল্লাহকে চোর সন্দেহে ছলিমগঞ্জ বাজারের সিএনজিস্যান্ডের সামনে আটক করেন। পরে তারা প্রথমে আব্দুল্লাহকে রাস্তায় ও পরে বাড়িতে নিয়ে গণপিটুনি দেন। তবি মিয়ার বাড়িতে আটকে রেখে আব্দুল্লাহকে নির্যাতন করা হয়।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, পরে আব্দুল্লাহকে সলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মাহিম উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আব্দুল্লাহকে পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, মাহিম উদ্দিন ও তার লোকজন কিছু না জানিয়ে আব্দুল্লাহকে ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন করেন। নির্যাতনে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুল্লাহ। রোববার বিকেলে ছলিমগঞ্জ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা আব্দুল্লাহকে ছলিমগঞ্জ অলিউর রহমান (প্রা.) হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া আব্দুল্লাহর চাচাতো ভাই শাকিল মিয়া বলেন, ‘মিথ্যা চুরির অভিযোগে আমার ভাইকে গণপিটুনি দিয়েছে। আমার ভাইয়ের পায়ে সূচ ঢুকিয়েছে। প্লাস দিয়ে কপালে চামড়া তুলেছে। ছলিমগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রেখে আমার ভাইকে নির্যাতন করেছে পুলিশ।’

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, আব্দুল্লাহকে ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছিল এবং নির্যাতন করা হয়েছিল বলে আমরা মনে করছি। বিভিন্ন সময় তাকে চিকিৎসা দেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। আসামিদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়াধীন আছে।

HTML tutorial

Leave a Reply