জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে চাঁদা চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাইদার ইসলাম নামের এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলার পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এদিন সন্ধ্যায় পাঁচবিবি থানায় একটি মামলা হয়। মামলায় স্থানীয় ধরঞ্জি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম, তাঁর ছেলে রাকিবুল ইসলাম ও অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মারধরের শিকার সাংবাদিক সাইদার ইসলাম বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিনের পাঁচবিবি উপজেলা প্রতিনিধি। তিনি উপজেলার পারইল গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে ও রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর।
সাইদার অভিযোগ করে বলেন, ‘শফিকুল আগে আওয়ামী লীগ করতেন, সে সময় ওই বিদ্যালয়ে আমার চাকরি হয়। এতে তাঁর তদবির হয়েছে বলে তিনি তখন থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী সরকারের পতনের পর শফিকুল নিজেকে বিএনপির লোক বলে প্রচার করতে থাকেন। সম্প্রতি আবারও ওই টাকা দাবি করেন। বিষয়টি আমি সহকর্মী সাংবাদিকসহ অন্যান্যদের জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল ও তাঁর ছেলেসহ ৩/৪ জন সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে লাঠিসোটা দিয়ে বেধরক মারপিট করতে থাকে। চিৎকার শুনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যান। এ সময় সহকর্মীরা আমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন।;
এ ঘটনায় সন্ধ্যায় সাইদারের স্ত্রী সাবিহা সুলতানা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে ছেলে রাকিবুলকে আটক করলেও শফিকুল পালিয়ে যান।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ইউপি সদস্য শফিকুলের ছেলে রাকিবুলকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান ও তদন্ত চলছে।

















