কৃষকের উৎপাদিত সোনালি আঁশের স্বপ্ন যমুনা নদীর প্রবল স্রোতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত পাটের জাগ ও ডিঙ্গি নৌকা ভেসে গেছে। রোববার রাতে উপজেলার সাতপোয়া, কামরাবাদ ও পোগলদিঘা ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় চার শতাধিক কৃষকের পাটের জাগ নদীর স্রোতে এবং কচুরিপানার চাপে ভেসে যায়। পরদিন সোমবার সকাল থেকে সারাদিন কৃষকরা নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে, ডিঙ্গি নৌকা করে ভেসে যাওয়া পাটের জাগ খুঁজে বেড়ান। তবে দু-একজন কিছু পাটের জাগ উদ্ধার করতে পারলেও অধিকাংশ কৃষক তাদের জাগের কোন সন্ধান পাননি বলে জানাগেছে। চর সরিষাবাড়ী গ্রামের মানিক মোল্লা বলেন, তার পিতা আব্দুল মান্নান মোল্লার দুটি পাটের জাগ ভেসে যাওয়ার পর সেগুলো খুঁজতে গিয়ে তিনি পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া এলাকায় অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, উপজেলা সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী, শিশুয়া, বাঘমারা, চর আদ্রা, ছাতারিয়া ও হেলেঞ্চাবাড়ীসহ বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য কৃষকের একাধিক পাটের জাগ নদীর স্রোতে ভেসে গেছে। একই সঙ্গে তিনটি ডিঙ্গি নৌকাও হারিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন, শিশুয়া গ্রামের মোল্লা, সুমন, কাশেম মন্ডল, বাগমারা গ্রামের খোকনসহ আব্দুল মান্নান মোল্লা, আসকেত আলী, জামাল উদ্দিন, উম্মত আলী, শহিদুল্লাহ, মাসুদ, সাইফুল, নুরুল ইসলাম, খোকা মিয়া, জালাল উদ্দিনসহ বহু কৃষক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উম্মত আলী ও নুরুল ইসলাম জানান, পাট পচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর জন্য নদীতে খুটির সাথে শক্ত করে বেধে জাগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রবল স্রোত ও কচুরিপানার চাপে জাগগুলো ভেসে ভাটির দিকে যমুনায় চলে গেছে। তারা এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরিষাবাড়ীতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। অতিবৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম আবাদ হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, অতিবৃষ্টি ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু এলাকায় পাটের জাগ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।
















