⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

গত ১ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কেমন পরিবর্তন এল?

HTML tutorial

বিদায়ী বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বকেয়া পরিশোধে সাফল্য আসলেও সংস্কারের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন উপদেষ্টার ওপর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের চাপ থাকায় এ খাতে আশানুরূপ অগ্রগতি মেলেনি। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানোর দাবির বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও নীতিগতভাবে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বিগত সরকারের সময় অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত খাত ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি। সে সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপরীতে ব্যয় বেড়েছিল ১১ গুণ। তবে গত এক বছরেও এ খাতের গুণগত মানোন্নয়নে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি।

সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে বর্তমানে দেশের ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১৫টির উৎপাদন এখনো বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেক কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে। ইতিবাচক দিক হলো—বিগত সরকারের সময় জ্বালানি খাতে বকেয়া ছিল তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা বর্তমানে কমিয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।

এদিকে দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় দিন দিন কমছে সরবরাহ। গত এক বছরে এ বিষয়েও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে দৈনিক চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস উত্তোলনে সরকারের কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য নেই। আমদানিনির্ভরতা বাড়ায় গ্যাসের দাম বেড়েছে, যার সরাসরি চাপে রয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম বলেন, ‘সরকারের কাছে তিনটি পরিবর্তন চেয়েছিলাম। প্রথমত, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির আইন বাতিল করা। সরকার আইন বাতিল করেছে ঠিকই, কিন্তু এর আওতায় আগে যে ধরণের বিনিয়োগ হয়েছে, সেগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। লোকসান দিয়েও পরোক্ষভাবে দুর্নীতিকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। লুণ্ঠন এখনো চলছে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্যাস-বিদ্যুতের দাম এখনো অযৌক্তিক পর্যায়ে রয়েছে। কয়লা ও এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে চড়া দামে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, ‘অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই সরকারের আমলে স্থবির হয়ে পড়েছে। যেটিকে আমরা কর্মদক্ষতা বলি, সেটি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অন্য বিষয়গুলোতে সরকারের যে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে, জ্বালানি খাতে তা দেখা যায়নি।’

এদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবহারে এ বছর বিশেষ কোনো গুরুত্ব পায়নি। এখনো মোট বিদেশি বিনিয়োগের মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচিত সরকার না থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি আশ্বাসের অভাবে বিনিয়োগে পিছু হটছেন। ফলে সমুদ্রের তলদেশ থেকে গ্যাস উত্তোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও অকার্যকর হয়ে আছে।

HTML tutorial

Leave a Reply