ঢাকা অফিস :
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা অপচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বিএনপির বিজয় ঠেকাতে গিয়ে জণগনের রায় প্রদানের পথ রুদ্ধ করবেন না। গত সাড়ে ১৫ বছর পতিত স্বৈরাচারও বিএনপির বিজয় ঠেকাতে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। দেশের মানুষ জানে, ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জণগনের রায় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করবে। এটা বুঝতে পেরেই বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী।
বৃহস্পতিবার (২১ আগষ্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা জানিয়েছে। সেলক্ষ্যে প্রস্তুতিও নিচ্ছে। অথচ নির্বাচনকে বাঁধাগ্রস্ত করতে বেশ কিছু রাজনৈতিক নানা শর্তারোপ করছে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য যেন নির্বাচন বাঁধাগ্রস্ত হয়, দেশে যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্টা না হয়। পরিস্থিত ঘোলাটে করা হচ্ছে যেন ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিবাদ তাড়াতে সক্ষম হলেও দেশে গণতন্ত্র উত্তরণের পথ এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হয় সেজন্য এখনও দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র অব্যহত রয়েছে। এসব ব্যাপারে দলের নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার, নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান আরো জানান, পিআর পদ্ধতি পৃথিবীর অনেক দেশে চালু থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা উপযোগী নয়। কারণ মানুষ কাকে ভোট দেবে, কে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে তা জানার অধিকার জণগনের আছে। কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে মানুষ জানবে না কে তাদের প্রতিনিধি। জণগনকে অন্ধকারে রেখে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করা মোটেও সমীচীন নয়। পিআর পদ্ধতি নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে। এখন না হলেও আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এটার সুন্দর সমাধান সম্ভব।
এ সময় ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি ইস্যুতে সব রাজনৈতিক দল একমত হবে, এটা ঠিক নয়। ভিন্নমত থাকাটাই গণতন্ত্র। তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। সারাদেশে ধর্মীয় স্থাপনা, বাসাবাড়িতে হামলা হয়েছে শুধুমাত্র অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।
তারেক রহমান বলেন, দলমত নির্বিশেষে এই দেশ সবার। আমরা সবাই বাংলাদেশী। বিএনপি দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য। আগামী নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আকুন্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা চান তিনি।

















