দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে দুর্ঘটনায় মি. ওয়াং নামে এক চাইনিজ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি খনির পার্শ্ববর্তী গ্রামে পরিত্যাক্ত ডেটোনেটর বিষ্ফোরণে এক শিশুর হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে খনির অভ্যন্তরে দুর্ঘটনায় আহত হন মি. ওয়াং। গুরুতর আহত অবস্থায় রাতে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মি. ওয়াংকে মৃত ঘোষণা করেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, বিসিএমসিএলের ভূগর্ভে ১৩০৫ নম্বর ফেইসের ট্রাক গেইট থেকে হাইড্রোলিক সাপোর্ট গুলি বের করার সময় মি. ওয়াং স্টিল রোপের সঙ্গে আটকে যান। মি.ওয়াংকে স্টিল রোপ থেকে মুক্ত করতে অন্য একজন চাইনিজ শ্রমিক স্টিল রোপ টান দেওয়ায় মি.ওয়াং সাপোর্টের সঙ্গে আটকে যান এবং গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক তাঁকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এখন চাইনিজ কন্সোর্টিয়াম তাদের পদ্ধতি অনুযায়ী মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ওইদিন দুপুরে খনির পাশের চৌহাটি গ্রামে পরিত্যক্ত ডেটোনেটর বিষ্ফোরণে ইলিয়াস হোসেন নামে এক শিশুর হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ইলিয়াসের পরিবার জানায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূ-গর্ভে গ্রানাইট বিষ্ফোরণে এই ডেটোনেটর ব্যবহার করা হয়। অবিষ্ফোরিত ডেটোনেটর পরিত্যাক্ত কয়লার সঙ্গে খনির ইয়ার্ডে ফেলে দেওয়া হয়। ইলিয়াস মঙ্গলবার দুপুরে সেখান থেকে কয়েকটি ডেটোনেটর পেয়ে বাড়ি নিয়ে আসে এবং মোবাইলের ব্যাটারির সঙ্গে তার দিয়ে ডেটোনেটরে সংযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে বিষ্ফোরণ ঘটে। এতে তাঁর হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি আহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের সব ধরনের সহায়তার কথা জানানো হয়েছে।

















