–এস. কে. সাত্তার
হলুদ সাংবাদিকতা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে ম্লাণ করে দিচ্ছে। প্রকৃত ও ভাল সাংবাদিকরাই বলতে গেলে অসহায় হয়ে পড়ছেন। না পারছে বলতে। না পারছে কিছু করতে। তাই নিরবেই হজম করে যাচ্ছে গোটা সাংবাদিকদের ওপর চাপিযে দেয়া অপবাদ। তবে সাংবাদিক সমাজকে মনে রাখতে হবে তথ্য সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে কিন্তু ম্লান করে দিচ্ছে। আর তাই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধ না করার কোনো বিকল্প নেই। যে কোন মূল্যে এদেরকে প্রতিহত করতে হবে। প্রসঙ্গত. দেশের উন্নয়নে সাংবাদিকগণ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। আর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জিত হয়।
কিন্তু এই হলুদ সাংবাদিকদের কারণেই প্রকৃত সাংবাদিকরা তাদের মর্যাদা হারাচ্ছেন। যারা ভালো সাংবাদিক, মানুষ তাদের ওপর আস্থা রাখে। বিপদ আসলে পাশে দাঁড়ায়। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বড্ড দুর্দিন চলছে। বিশেষ করে মফস্বলে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা একটি অপরিহার্য বিষয়। সাংবাদিকতার প্রাণ। বস্তুনিষ্ঠতা হচ্ছে কোন দল বা গোষ্ঠীর পক্ষপাতিত্ব না করা। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা। মোদ্দা কথা বিষয়টা বাড়িয়ে বা কমিয়ে না লেখা। সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা যেখানে নিজের মন্তব্য লেখার ও কোন সুযোগ নেই। সাংবাদিক যা জানবেন উপযুক্ত প্রমান হাতে নিয়ে তা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মানুষ কে জানাবেন।
একজন সৎ আদর্শবান সাংবাদিকের লক্ষন হল তিনি পক্ষপাতহীন লিখবেন। কিন্তু আমরা ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরা তা করছিনা বা করতে পারছি না কেন ? এটাও সত্য যে, দেশের বাস্তবতায় একজন সাংবাদিক কখনোই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করার সুযোগ পান না। যদিও দেশের সংবিধানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা আছে। তবুও সাংবাদিকরা স্বাধীন নন। সাংবাদিকরা যা সত্য তা লিখতেও পারেন না বলতেও পারেন না। এক জন সাংবাদিককে বহু ঘাত পতিঘাত পেরিয়ে সাংবাদিকতায় মুনশিয়ানা দেখাতে হয়।
মানহানি, হলুদ সাংবাদিকতা, তথ্য সন্ত্রাস, অপপ্রচার, চেক বুক সাংবাদিকতা, ভুল তথ্য, ফরমায়েশি নিউজ, দলবাজ-দলকানা-দলদাস স্বভাব, নি:স্বন্দেহে সাংবাদিক জীবনের কলঙ্ক বয়ে আনে। মানহানি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। সাংবাদিক কেন কারো অধিকার নেই কারো মানহানি করা। কোন সম্মানিত মানুষকে অনুমান বশত. অপরাধী বলা বা লেখা অন্যায়। কোন সাংবাদিকের উচিৎ নয় কারো মানহানি করা। কিন্তু সেটি আমরা হরহামেশা করেই যাচ্ছি। হলুদ সাংবাদিকতা শব্দটা সব চাইতে বেশি উচ্চারন করে সাধারণত. সরকারি দল। হলুদ সাংবাদিকতা হল সংবাদে রঙ দেয়া অর্থাৎ কল্পনার আশ্রয় নেয়া। বাড়িয়ে বলা। প্রমান হাতে না নিয়ে সংবাদ করা। কতিপয় সংবাদ মাধ্যম ও এই ভয়ানক কাজটি প্রায় করে থাকে। চেক বুক সাংবাদিকতা শব্দটার সাথে আমরা খুব একটা পরিচিত নই। সোজা কথায় টাকার বিনিময়ে রিপোর্ট করা। এখন অনেক সাংবাদিকের টাকা কামাবার হাতিয়ার এই সাংবাদিকতার নামে নোংরা কাজটি করা। ভালো সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পাশাপাশি অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে হবে ভাল সাংবাদিকদের। কিন্তু সৎ ও ভাল সাংবাকিরাই যেন একা। দলভারি হলুদ সাংবাদিকদের। সাংবাদিকরা যেন একটু স্বস্তি নিয়ে কাজ করতে পারে সে লক্ষ্যে সাংবাদিকদের থাকে প্রেস ক্লাব। কিন্তু হলুদ সাংবাদিকদের জন্য অনেক প্রেস ক্লাব ও হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ!
ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হলেও, এটি এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলোও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে যেন বড়োই অন্ত্ররায় সৃষ্টি করছে। সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। যাতে তারা নিরপেক্ষভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করতে পারেন। স্বাধীন সাংবাদিকতার সুরক্ষার জন্য আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা এবং সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। দেশ এখন ফ্যাসিবাদ মুক্ত। এরপরও দেশে স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য দাবি জানাতে হয়। এটাই বড় পরিতাপের বিষয়। সরকারের স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম নীতি থাকলে ও তা বাস্ত্বায়নে সংশ্লিষ্ট অনেকের অনীহা রয়েছে। যে কারণে দেশের গণমাধ্যমও এখনো নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার। সরকার বিষয়গুলো জানলেও এসব ক্ষেত্রে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন বলে দৃশ্যমান নয়।
স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া গণতন্ত্র সুরক্ষা পায় না। তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অবশ্যই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মস্থলে ও অধিকার বঞ্চিত হওয়া কিংবা নিরাপত্তা না থাকায় প্রকৃত সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করতে পারেন না। তাই সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আইন করা ও জরুরি। সাংবাদিকতা একটি ঝুকিপূর্ণ পেশা। এখানে কাউকে জোর করে নিয়ে আসা যায় না। বরং এই ঝুঁকি মেনে নিয়েই সাংবাদিকতা করতে হয়। সাংবাদিকদের পেশার মর্যাদার কথাও ভাবতে হবে। এই পেশায় যারা জড়িত তাদের দেশের স্বাধীনতা ও মূল্যবোধের কথা তুলে ধরতে হয়। মনে রাখতে হবে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম যদি দুর্বল হয় তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও দুর্বল হয়ে যায়। সুতরাং দেশকে সুদৃঢ় রাখতে হলে রাষ্ট্রের বাকি তিনটি স্তম্ভের পাশাপাশি চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে ও দায়িত্ব পালন করতে হয়।
লেখক: এস. কে. সাত্তার,
স্টাফ রিাপর্টার-দৈনিক ইনকিলাব।

















