⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

মাকে বিদায় জানালেন তারেক রহমান

HTML tutorial

লন্ডনের বাসা থেকে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া। সোমবার (০৫ মে) বাংলাদেশ সময় ৭টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়া লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন। পরে তারেক রহমান মাকে বিদায় জানান।

এর আগে স্থানীয় সময় ২টা ১০ মিনিটে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে মাকে বিমানবন্দরে নিয়ে যান।

কাতারের আমিরের দেওয়া বিশেষ বিমানে (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) বেগম জিয়া দেশে ফিরছেন। প্রসঙ্গত, কাতারের আমিরের দেওয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার দুই পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান ও সৈয়দা শর্মিলা রহমানও দেশে আসছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার খবরে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। দলীয় প্রধানকে স্বাগত ও অভ্যর্থনা জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভাও করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় দলের ঢাকা মহানগর ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে যৌথসভা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া বাংলাদেশ থেকে গত ৭ জানুয়ারি রওনা দিয়ে ৮ জানুয়ারি লন্ডন পৌঁছান। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় লন্ডনের ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ঢাকার প্রস্তুতি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর এক যৌথসভা ডাকেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এশিয়া মহাদেশের নারীনেত্রীদের মধ্যে গণতন্ত্রের জন্য যে কয়েকজন সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের অন্যতম খালেদা জিয়া। তিনি কখনো ফ্যাসিবাদের কাছে মাথানত করেননি। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দীর্ঘ ৯ মাস তিনি দুই শিশুপুত্রসহ পাকিস্তানি সেনানিবাসে বন্দি ছিলেন। এ মহীয়সী নেত্রী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠিয়ে নির্যাতন করে অত্যন্ত অসুস্থ করে ফেলে। খালেদা জিয়ার অসুখের জন্য স্থানীয়ভাবে আমরা চিকিৎসা করিয়েছি, জন হপকিন্সের চিকিৎসকরাও এসেছিলেন। এরপর জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। এ কথাগুলো বলার অর্থ হলো, গণতন্ত্রের প্রশ্নে ত্যাগ স্বীকার করা তার মতো নারীনেত্রী আমাদের চোখে খুব একটা পড়ে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি আমাদের দেশের মানুষের জন্য বড় সম্পদ। শুধু তা-ই নয়, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তিনি আমাদের আলোকবর্তিকা। যাকে সামনে রেখে আমরা সব সময় লড়াই সংগ্রাম করি। তবে জনগণের প্রতি তার যে ভালোবাসা ও দূরদৃষ্টি, সেটির নজির তিনি দিয়েছেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশে দুই মিনিটের বক্তব্য দিয়ে। সেই বক্তব্যে তিনি সবকিছু তুলে ধরেছিলেন। তিনি প্রতিরোধ-প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে আহ্বান থাকবে, কোনো যানজট সৃষ্টি না করে রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে তারা যেন খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। এক হাতে জাতীয় পতাকা আরেক হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে আমরা মহান নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাব। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।

HTML tutorial

Leave a Reply