⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাত দিন কাজে ব্যস্ত মৃত শিল্পীরা ॥ তিনশ বছরের পুরনো বৈশাখী মেলায়ও চলছে প্রস্তুতি

HTML tutorial

শেরপুর সদরের বয়ড়া পাল পাড়ার মৃত শিল্পি কমলা রাণী পাল ব্যস্ত মাটির খেলনা তৈরীর কাজে। আবার পাশ্বের বাড়ীর বাবু পাল রাতদিন মাটির খেলনায় রং করতে ব্যস্ত। দুদিন পরেই পয়লা বৈশাখ। পাইকাররা আসবে খেলনা নিতে। তাই পিছন ফিরে তাকাবার সময় নেই তাদের।

একটা সময় গ্রাম বাংলার মেলায় খেলনা সামগ্রী বলতে মাটির খেলনাকেই বুঝাতো। অনেকেই ঘর সাজানো কিংবা শিশুদের খেলনার প্রধান সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করতো মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করা মাটির খেলনা সামগ্রী। কিন্তু কালের বিবর্তনে প্লাস্টিকের খেলনা বাজার সয়লাব ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব খেলনার কদর অনেকটা কমলেও এখনো হারিয়ে যায়নি মাটির তৈরী খেলনা সামগ্রীর। চাহিদা কমে যাওয়ায় তেমন লাভ নেই পালদের। তাই পেশা বদল করছে পালরা।

কমলা রাণী বলেন, একসময় অনেক খেলনা ও মাটির জিনিস বানাতে হতো। এখন আর এতো চাহিদা নাই। প্লাস্টিকের অনেক জিনিস বাজার সয়লাভ। তাই আমাদের তৈরী জিনিস এখন কম চলে। আমাদের লাভ কম। অনেক কষ্টে চলতে হয়।

ষাটোর্ধ গোবিন্দ পাল বলেন, এখন আমাদের পালদের দূর্দিন চলছে। আমাদের দিন চলেনা। সরকারও আমাদের সযোগিতা করেনা। আমরা বাপদাদার পেশা ধইরা রাখছি। কিন্ত আমাগো সন্তানরা আর এ পেশায় আইতাছে না। একসময় মাটির জিনিস আর থাকবোনা।

পলাশ পাল বলেন, নববর্ষকে কেন্দ্র করে ছয়মাস আগে থেকেই শুরু করা হয় খেলনা তৈরি। এখন রং করতে ব্যস্ত সময় পার করছি আমরা। আমাগো ঘুমানোর সময় নাই। আমাগো বউপোলাপান সবাই রং তরতাছে।

মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান সহ নানা উদ্যোগের কথা জানান বিসিকের শেরপুরের ম্যানেজার মোঃ আতাউর রহমান।

এদিকে শেরপুর জেলার সবচেয়ে প্রাচীন প্রায় তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী চান্দের নগর বৈশাখী মেলা এবারও বসবে। এজন্য তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজকরা। জানার বিষয় এ মেলার জন্য কোন প্রচারের প্রয়োজন পড়েনা। মানুষ পয়লা বৈশাখে চলে আসে এ মেলায়। আয়োজন করা হয়ে থাকে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গাঙ্গী খেলা, ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতাসহ নানা খেলা-ধুলার। অনেকেই দাওয়াত দেন ঝি-জামাই ও আত্মীয়দের। দিবসটিকে তারা ঈদের দিনের আনন্দের সাথে তুলনা করে থাকেন। এবারো বেশ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এ মেলার। জেলা আরো অর্ধশতাধিক ছোট বড় মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

শেরপুর সদরের ধলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মো: জাকির হোসেন বলেন, আমরা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবারো বৃহৎ আয়োজনে মেলার আয়োজন করেছি। এরই মধ্যে জ্বি জামাই ও আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

HTML tutorial

Leave a Reply