⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

শেরপুর সীমান্তের গারো পাহাড়ে চোরাই গাছসহ দুইজন আটক

HTML tutorial

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারে পাহাড়ে অবৈধভাবে গাছ কেটে পাচারকালে চোরাই গাছ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
১২ এপ্রিল রবিবার ভোরে জেলার শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী রানীশিমূল ইউনিয়নের বালিজুরি রেঞ্জের সদর বিট এলাকার বন বাগান থেকে বনের গাছ ও গাছ কাটার ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ ওই দুইজন গাছ চোরকে আটক করে বন বিভাগ।

আটককৃতরা হলো শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী হালুয়াহাটি গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে জজ মিয়া (৫০) ও বালিজুরি এলাকার কাসেম আলীর ছেলে জুমুর আলী (৪০)। তারা স্থানীয়ভাবে বনের গাছ চোর হিসেবে পরিচিত।

বন বিভাগের বালিজুরি ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের কর্মকর্তারা জানান, ১২ এপ্রিল রবিবার ভোরে বালিজুরি রেঞ্জের সদর বিটের আওতাধীন ২০১৪/২০১৫ আর্থ বছরের সৃজিত ৪০ হাজার হেক্টর ৩য় আবর্তের উডলট বাগান থেকে আকাশমনি গাছ কাটা হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে বালিজুরি রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়া নেতৃত্বে বালিজুরি সদর বিট কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামকে নিয়ে বন বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে গাছ কর্তন ও পরিবহনের উদ্দেশ্যে মজুদ কালে ২ জনকে আটক করে।

এদিকে বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে বালিজুরি অফিস পাড়া এলাকার মোজাহাত আলীর ছেলে লাল চান বাদশা (৪৫) সহ তার অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে কাঠ পাঁচারের কাজে ব্যবহৃত ১ টি ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যান, ১২ টুকরা আকাশমনি গোল কাঠ ১০ ঘনফুট, ৪টি আকাশমনি গাছের মোথা, ২ টি হাত করাত ও ১টি দা উদ্ধার করা হয়।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের বালিজুরি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো সুমন মিয়া আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, আটককৃত জজ মিয়া ও জুমুর আলী অত্র পাহাড়ি অঞ্চলের পেশাদার কাঠ চোর। আমাদের অভিযানে তাদের আরেক সহযোগী লাল চাঁন বাদশা পালিয়ে যায়। আটককৃতদের শেরপুরের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বনের গাছ চুরি প্রতিরোধে বন বিভাগের দিনে ও রাতে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন বনজ সম্পদ রক্ষার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে রাংটিয়া রেঞ্জের গজনি বিট এলাকায় ১১ এপ্রিল শনিবার বিকেলে সামাজিক বনায়নের একটি বাগান থেকে ওই বাগানের উপকারভোগী ফাইজুদ্দিন এবং তার সহযোগী সামেদুল মিলে প্রায় দশটি আকাশমনি গাছ কেটে টুকরো করে পাচারের পরিকল্পনা করছিলেন। খবর পেয়ে সামাজিক বনায়নের উপকারভোগি কমিটির সভাপতি দুলাল মন্ডল ও তার সহযোগীদের নিয়ে গাছগুলো আটক করে। এদিকে অভিযানের খবর পেয়ে ফয়েজ উদ্দিন ও সামিদুল পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গজনি বীটের অফিসার আবু সালেহীনকে খবর দিলে গাছগুলো জব্দ করে বিট কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি দুলাল মন্ডল বলেন, ফয়জুদ্দিন একজন উপকার ভুগি হয়েও সে নিজেই এই বাগানটি গোপনে ৮ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন চোরদের মাধ্যমে প্রায় প্রতি রাতেই গাছগুলো কেটে নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে গজনি বেটের বীট কর্মকর্তা আবু সালেহীন জানায়, গাছ কাটার সাথে জড়িত অভিযুক্ত পার্টিসিপেন্ট ফাইজুর ও সামিদুল খুবই দুর্ধর্ষ প্রকৃতির মানুষ। তাদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত: সাবেক আওয়ামী সরকারের আমল থেকেই বন কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে এভাবে সরকারি বনাঞ্চলের কাঠ কেটে অবাধে পাচার করা হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু নয়া সরকার গঠন করার পর থেকে বন বিভাগ নড়ে চড়ে বসে। ফলে এখন পরিস্থিতি ও বন কর্মকর্তা কর্মচারীদের পুরনো চরিত্র পাল্টে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে বন বিভাগের সুচতুর কর্মকর্তা কর্মচারীরা তৎপর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

HTML tutorial

Leave a Reply