নিজস্ব প্রতিবেদক :
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেন আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন।
দণ্ডিত অন্যরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
আসামিদের অনুপস্থিতিতে ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
সাত আসামির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে হত্যা, নির্যাতন চালানোর নির্দেশ, উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
গত ১৮ ডিসেম্বর এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। বিচার শুরুর পর গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন।
জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটা ছিল সপ্তম রায়। এর আগে ছয়টি মামলার রায়ে ৬১ আসামির সাজা দেওয়া হয়।
দণ্ডিতদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও রয়েছেন। ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতির মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়েছে। এখন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও একই দণ্ড পেলেন। তিনিও ভারতে রয়েছেন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, রক্তাক্ত এক পথ পেরিয়ে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তার পরিণতিতে ওই বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
জুলাইয়ে আন্দোলন দমনে কঠোর ভূমিকা নিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তখন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
এ পর্যন্ত দেওয়া ছয়টি মামলার রায়ে যে ৬১ আসামির সাজা হয়েছে, তার মধ্যে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৫ জনকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। এই ১৫ জনের মধ্যে ১১ জনই পলাতক, চারজন বন্দি রয়েছেন।

















