এস. কে. সাত্তার
দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন আছে। তার কতটা প্রয়োগ আছে তা আমার জানা নেই! তবে মনে হয় কাজির গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই, অবস্থাই বিরাজমান! কারণ হিসেবে দেখা যায়, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির সম্মুখীন। শুধু নাজেহাল হুমকি নয়। খুন ও হয়েছে এবং হচ্ছেন সাংবাদিকগণ!
তবে আশার কথা হচ্ছে, এতো মারাত্মক ঝুঁকির পর ও দেশের উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা জীবন বাজি রেখে সাংবাদিকতায় যুক্ত হচ্ছেন। যুক্ত হয়ে কি ভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়। কোন কোন বিষয়কে প্রধান্য দেয়া উচিত। তা রপ্ত করতে হয়। তা করছেনও অনেকেই।
তবে মনে রাখতে হবে যে, হাতে গোনা মাত্র পাঁচ দশটি সংবাদ মাধ্যম ছাড়া বাকি প্রায় সব ধরনের সংবাদ মাধ্যম কিন্তু বেতন ভাতা দেয়ার চাইতে উল্টো সাংবাদিক মাসে কত টাকা দিতে পারবে এই কন্ডিশনে নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে!
এসব জেনে শুনে ও অনেক মেধাবী বেকার জেলা উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক যারা, তাদের ভেতরে একটা মোহ কাজ করে। অনেকেই মনে করেন এই পেশায় যুক্ত হলে সমাজের নীতিনির্ধারক বা প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের সাথে সহজে মেলামেশা করা যায়। সবাই সমীহ করে। মর্যাদা ও পাওয়া যায়। তাই বেকার বসে না থেকে আপাতত সংবাদ মাধ্যমেই কাজ শুরু করি। এ ধরনের আশা ও আগ্রহ থেকেই অনেকটা শখের বশে এই পেশায় ভাল লাগা তৈরি হয়। তার পর লিখতে লিখতে এক প্রকার নেশায় পড়ে যায় মফস্বল সাংবাদিকরা। পরবর্তীতে এই নেশা আর ছাড়া যায় না। এ ভাবেই এই কাজকেই পেশা হিসাবে বেছে নেন অনেকেই।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে, হাতে গোনা কয়েকটি প্রচার মাধ্যম সম্মানী ভাতা দিলে ও বাকি শত শত অখ্যাত সংবাদ মাধ্যম একটা কানা কড়ি ও দেন না! ফলে সেই সব মিডিয়া কর্মীদের বাধ্যতামূলক চাঁদাবাজি করে চলতে হয়। কিন্তু সাংবাদিকদের যা বিবেচনা করা উচিত! যা হওয়া উচিত? তা তারা অনিচ্ছা সত্বেও আর নীতি নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করতে পারেন না। বা চলতে পারেন না। দেশের সীমান্ত আঞ্চলগুলোতে ও নাকি ইদানিং কোন কোন চোরাকারবারী মাদক ব্যবসায়ী ও নাম সর্বস্ব পত্রিকার আইডি কার্ড ঝুলিয়েই বেআইনি ব্যবসা করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ছিঃ কেমন লজ্জার বিষয়! ঐসব ভূইফোর সংবাদ মাধ্যম ও তথাকথিত সাংবাদিক থেকে সাবধান থাকাই বাঞ্ছনীয় বলে মনে করেন সুস্থ বিবেক সম্পন্ন চিন্তাশীল মহল!
অথচ ইতোপূর্বে মফস্বল সাংবাদিকতা ছিল স্বচ্ছল ব্যাক্তিদের জন্য একটি সৌখিন পেশা! অনেকটা সখের বসেই এই পেশায় যুক্ত হতেন মফস্বল সাংবাদিকগণ। কিন্তু এখন আর সেই সৌখিন পেশা নয় সাংবাদিকতা। এখন হয়ে গেছে বলতে গেলে চাঁদাবাজীর লাইসেন্স! এবিষয় নিয়ে লেখা স্ববিরোধী হলেও দিবালোকের মত সত্য। যা এখন ওপেন সিক্রেট। তা নিয়ে জনমনে চলছে গুঞ্জন, তা না লিখে উপায় নেই!? তাই কিছুটা হলেও তুলে ধরাতে চাই । বর্তমানে মফস্বল সাংবাদিকতা কেমন তা কেউ আর জানার বাকি নেই!? তবে এখনো বলা চলে যে, সাংবাদিক চাঁদাবাজী করে না। চাঁদাবাজরা সাংবাদিকতা করে!!??
এখন বলতে গেলে, জেলা উপজেলা পর্যায়ের অনেক সাংবাদিকের মধ্যে ও যে যোগ্যতা দক্ষতা থাকা দরকার তাও অনেকেরই নেই! হাতে একটা এন্ড্রয়েড মোবাইল থাকলে সেই এখন সাংবাদিক! ফলে যোগ্যতা ও অভাবের কারণে তারা সঠিক, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিক হিসাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারছেন না। আর প্রকৃত সাংবাদিক যারা দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করেন তাঁরাই পড়েছেন বিপাকে।
আর যারা ভং ঢং সাংবাদিক। তাদেরই বা কি দোষ দেয়া যায়? পেটের ভাত তো যোগাতে হবে?
সাংবাদিকের যে সব বিষয় বা যোগ্যতা থাকা উচিত তা হচ্ছে শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়তো অভিজ্ঞতা ও কাজের স্বীকৃত দক্ষতা! আর্থিক স্বচ্ছলতা। কারণ দেশের খুব কম সংখ্যক গণমাধ্যমই আছে জেলা উপজেলা পর্যায়ে বেতন ভাতা প্রদান করেন।
প্রসঙ্গত. মফস্বল সাংবাদিকতায় ডিগ্রি লাগে না। থাকলে ভালো। কিন্তু সততা আদর্শ যোগ্যতা অভিজ্ঞতা নির্লোভ মানুষ ব্যতীত সাংবাদিকতায় অংশ গ্রহণ উচিৎ নয়। তাই সব সাংবাদিকের সমান গ্রহণযোগ্যতা ও থাকে না! অনুরূপভাবে জনপ্রিয়তা ও থাকে না। সব কিছু নির্ভর করে সততা অভিজ্ঞতা ও সৎ নিষ্ঠাবান নির্ভিক সাংবাদিকতার ওপর। গলায় কার্ড ঝুলিয়েই সাংবাদিক সাজা যায়। চাঁদাবাজী চামচামি দালালি করা যায়। কিন্তু সাংবাদিক হওয়া যায় না!! ভাল সাংবাদিক হওয়ার সুযোগ এতো সস্তা ও নায়?
জেলা উপজেলা পর্যায়ে যারা সাংবাদিকতা করেন তাদের দুই- চার জনের উচ্চ শিক্ষা থাকলেও তা কিন্তু সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট নয়। এমনকি আন্ডার ম্যাট্রিক লোকজনও এখন এই পেশায় জড়িয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে যাচ্ছেন শুধু সততার কারণে! আবার কেউ নাম সর্বস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে টেনেটুনে পাশ করে ও সাংবাদিক! কেউ বা আবার সার্টিফিকেট কিনে ও সাংবাদিক! এটাই জেলা উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকতার বাস্তবতা। যে কারণে সাংবাদিকতায় জ্ঞানের অভাবে ভুল তথ্য বেশি ছড়াচ্ছে। এক সমীক্ষায় জানা গেছে, সারা দেশে কর্মরত ৮০ ভাগের ও বেশি সাংবাদিকের সাংবাদিকতা বিষয়ে কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। যা আছে শুধু দেখে আর লেখে শেখার অভিজ্ঞতা। নেই সাংবাদিকতার মৌলিক জ্ঞান!
আর তাই প্রতিবেদন তৈরিতেই বুঝা যায় ওই সাংবাদিক কতটা দক্ষ! হাজারো তথ্য উপাত্ত্যের মধ্যে সংবাদের মুল বিষয়বস্তু সংকলন। প্রতিবেদনে উপস্থাপন ও প্রাথমিক সম্পাদনার দক্ষতা এবং অনুসন্ধানী তথ্য সংগ্রহের ইচ্ছা থাকতে হয়। জানতে হয় সাংবাদিকতার নীতিমালা। কারণ কোন কাজটি সাংবাদিক হিসাবে করতে পারেন। কোনটি পারেন না তা জানা থাকা উচিৎ। জানতে হবে, মানহানিকর বক্তব্য কী, সংবাদ পরিবেশনের সময় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কিভাবে রক্ষা করা যায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। তথ্য অধিকার আইন কি? কোনো শিশু-কিশোর অপরাধীকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় তার নাম, ছবি বা পরিচয় প্রকাশ শিশু আইনের পরিপন্থী। এছাড়া একজন সাংবাদিককের আচরণ, কথাবার্তা, পোশাক, চলা ফেরাতেও ভদ্রতা মার্জিত হতে হয়। আবার ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা, মানবিকতা, নৈতিকতা তার পর শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা থাকা উচিত। ন্যায় নিষ্ঠার ও ভারসাম্য রক্ষার জ্ঞান থাকা ও অত্যাবশ্যক বৈকি!
স্থানীয় সব বিষয়েই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দক্ষতা থাকতে হয়। জানা থাকতে হয় জেলা উপজেলার ইতিহাস, সংস্কৃতি, জনগোষ্ঠী, ভৌগোলিক অবস্থান, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ চিত্র সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা। স্থানীয় ভাষা ও কথ্য রীতির উপর দখল। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনীতি ও ক্ষমতার গঠন ভালভাবে বুঝতে হয়। যেমন কোন এলাকার যে কোন ব্যাপার নিয়ে প্রতিবেদন করতে গেলে। সেখানকার ইতিহাস, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের জীবন জীবিকা সম্পর্কে ধারণা না থাকলে ভাল প্রতিবেদন তৈরি করা সম্ভব নয়।
এছাড়া সংকট, সমস্যা, উন্নয়নসহ নানা বিষয় ধারণা থাকা অত্যাবশ্যক। যেমন, কৃষি সংকট, দুর্নীতি, অপরাধ, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করতে চাইলে আগে তা নিজেকে পরিস্কার ভাবে জানতে হবে। কোন প্রতিবেদনে কি ধরনের তথ্য থাকতে হয়। কার কার সঙ্গে কথা বলতে হয় এবং কার বক্তব্য নিতে হবে ইত্যাদিও জানা থাকা আবশ্যক। আবার কোনটি বিশেষ প্রতিবেদন হতে পারে। এ সব বিষয়েও ধারণা থাকার দরকার আছে।
ভাষা ও সংস্কৃতির জ্ঞান এবং সাহিত্যে পারদর্শী একজন সাংবাদিকের স্থানীয় ভাষা ও বাংলার ওপর ভাল দখল এবং উচ্চারন মৌলিক দক্ষতা থাকতে হয়। আঞ্চলিক ভাষার অর্থ তাকে জানতে ও বুঝতে হয়। এতে স্থানীয় মানুষ। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ সহজতর হয়। জেলা উপজেলার ইতিহাস, রাজনীতি ও সামাজিকসহ সব বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা থাকতে হয়। এছাড়া আলোচনা, লাইভ সম্প্রচার, তথ্য প্রদান ও স্টোরির ভয়েস ওভারে আঞ্চলিকতা পরিহার করে শুদ্ধ উচ্চারণের চেষ্টা থাকতে হয়। তাছাড়া ও আইন আদালত, বিচার, অপরাধ, স্বাস্থ্যসহ ইত্যাদি নানা বিষয়ের কিছু টার্ম আছে যা বাংলাতে সাধারণ মানুষকে বোঝানো কঠিন। সে সব ক্ষেত্রে সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করার যোগ্যতা থাকলে কাজ করা সহজ হয়। একজন ডিসি- এসপি জেলা উপজেলার সাংবাদিকদের কাছে গুরুতর বিষয়ে ব্রিফ করেন। সেখানে কিছু কিছু সাংবাদিক তার দেয়া বক্তব্য না বুঝেই খবর করার অভিযোগ ও পাওয়া যায়। সাংবাদিকের মান সেই সব সাংবাদিকের যোগ্যতা দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না!
বর্তমানে ডিজিটালের মৌলিক দক্ষতা অর্জন করা ও জরুরি। একটা সময় সংবাদের বড় মাধ্যম ছিল একমাত্র পত্রিকা। যা শুধু শিক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য। বিজ্ঞান ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন গণমাধ্যমের দাপট অনেক বেড়েছে। বেড়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। সাংবাদিকতার ধরনেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। যা এখন যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত। বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের ভিডিও, ছবি, অডিও রেকর্ডিং, অনলাইন প্রকাশনা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থেই। যে কারণে মোবাইল জার্নালিজম, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, ভিডিওগ্রাফি ও এডিটিং সমন্ধে নুন্যতম জ্ঞান থাকা ও জরুরি। আর সেজন্যই জেলা উপজেলা সাংবাদিককেও যুগের সাথে তাল মেলাতে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে পারদর্শী হতে হয়।
আবার সৎ নীতি-নৈতিকতা রক্ষা করে সাহসীও হতে হয়। যা নিজের ভেতর সততা না থাকলে সম্ভব নয়। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা ক্ষমতাশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিউজ করলে হুমকি। হামলা, মামলার মুখোমুখি ও হয়রানি হতে হয়। এটাই হচ্ছে সমাজের উচ্চশ্রণীর প্রভাব। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ উপেক্ষা করে সত্য ঘটনা তুলে ধরার সাহস থাকতে হয়। মনে রাখা প্রয়োজন সত্য প্রকাশ করাই সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য। তবে তা যেন গণমানুষের জন্য ক্ষতির কারণ না হয়। সাংবাদিকদের অনেক সময় প্রভাবশালীদের কাছ থেকে প্রলোভন আসে। হুমকিও আসে সত্য তথ্য প্রকাশ না করতে। একজন নীতিবান সাংবাদিকের কাজ সেই চাপে নত না হয়ে তথ্য প্রমাণসহ প্রতিবেদন তৈরি করা। এক্ষেত্রে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রতি দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভাবমুক্ত অবস্থান, ঘুষ, উপহার বা বিশেষ সুবিধা গ্রহণ না করার মানসিকতা, নিরপেক্ষতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি।
এ জন্য তথ্য সংগ্রহে কৌশলী ও অনুসন্ধানী মানসিকতা থাকতে হয়। একেবারে কেউ কল্পনাও করে না, এমন কিছুর তথ্য সংগ্রহ করে সুন্দর খবর করা সাংবাদিকের বড় সাফল্য! একজন ভাল সাংবাদিকের থাকে অনেক সোর্স। অনেক সময় অফিসিয়াল সোর্সের কাছে ও তথ্য থাকে না। তখন স্থানীয় স্বচেতন মহল থেকে শুরু করে গ্রাম্য চৌকিদার ও হয়ে ওঠেতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দাতা। সেক্ষেত্রে তাদের সাথে কৌশলে কথা বলে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে সাবলিল ভাষায় প্রশ্ন করতে হবে। সাংবাদিককে মনে রাখতে হবে যে, তিনি কোন পুলিশ দারোগা বা প্রসাশনের কোন বড় কর্তা ব্যক্তি নন। তাই ভাষাটা যেন ধমকের সুরে না হয়। সন্দেহভাজন তথ্য যাচাইয়ের জন্য একাধিক উৎস খুঁজে বের করে তা নিশ্চিত হতে হয়। গুজব ও অর্ধ সত্য খবর থেকে নিজেকে বিরত রাখার পাশাপাশি দক্ষতা থাকতে হয় সোর্স যাচাই, তথ্য বিশ্লেষণ ও ডেটা সংগ্রহের ক্ষেত্রে।
যোগাযোগ, সোর্স মেইনটেইন ও সম্পর্ক গড়ার দক্ষতা থাকতে হয় সাংবাদিকের। বড় শক্তি তার সোর্স নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ। পুলিশ, হাসপাতাল, শিক্ষা অফিস সহ বিভিন্ন অফিস, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সাধারণ মানুষ, সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সাংবাদিকতার নীতিমালা। সেই জন্যই বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জন করা জরুরি। নতুন নতুন সম্পর্ক তৈরি ও রক্ষা করার মানসিকতা ও থাকতে হয়। যেমন কোন র্ঘটনার খবর নিশ্চিত হতে থানায় ফোন দিলে পুলিশ যদি সাংবাদিককে ভালোভাবে চেনেন। তাহলে তিনি সহজেই তথ্য দিয়ে তাকে সাহায্য করতে পারেন। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তথ্য উৎস, সোর্স এবং প্রভাবশালীদের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক মেইনটেইন করাও একজন সাংবাদিকের যোগ্যতার অংশ।
সাংবাদিকের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার মানসিকতা থাকতে হয়। কোন দলের লেজুড় বৃত্তিকে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা বলে না! তাই যেহেতু সাংবাদিকদের ও ভোট দিতে হয়। সে জন্য কোন না কোন দলের সমর্থক হতেই পারেন। কিন্তু খবর লেখার সময় নিরপেক্ষতা বজায় রেখে খবর করতে হয়। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জেলা উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী সব সময় কিন্তু সাংবাদিকদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে। অথবা কখনো চাপে রেখে। নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সংবাদ তৈরি করার কৌশল ও সাহস থাকতে হয়। স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ও জরুরী। নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কৌশল জানা থাকাও উচিৎ। প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা না রেখেও সম্পর্ক ম্যানেজ করা যায়। আবার কখন কথা বলা যাবে। কখন চুপ থাকতে হবে। এসব কৌশলও জানা থাকা অত্যাবশ্যক।
মফস্বল সাংবাদিকদের কাজের কোন নির্দিষ্ট ধরন সময় বা নির্দিষ্ট বিষয় নেই। তাঁকে সব বিষয়ের উপর খবর করতে হয়। তাকে একপ্রান্ত থেকে আরেকে প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হয়। অথবা সব যায়গায় বিশ্বস্ত সোর্স থাকলে দুর্গম পথে যাতায়াত না করে তাদের মাধ্যমে খবরের উৎস ও উপাদান নিয়ে খবর করা যায়। দুর্যোগের সময় নিউজ কাভার করতে গিয়ে ঝুঁকিও নিতে হয়। এ ছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বা রাত-বিরাতেও কাজে বের হতে হয়। এজন্য শরীরও মানসিকতা সেভাবেই প্রস্তুত রাখতে হয়।
নিজেকে তৈরি রাখতে হয়। সাংবাদিক শুধু সংবাদের তথ্য ও ফুটেজ সংগ্রাহক নন। তিনি নিজের এলাকাকে সারাদেশ ও দুনিয়ার সামনে তুলে ধরেন। সে জন্যই তার মধ্যে থাকতে হয় স্থানীয় বাস্তবতা ও আইন সম্পর্কে জ্ঞান ও দেশাত্মবোধ। সততা, সাহস ও নিরপেক্ষতার গুণ। প্রতিবেদন লেখা, তথ্য যাচাই, ছবি-ভিডিও সংগ্রহের দক্ষতা। তার নিয়মিত অভ্যাস থাকতে হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের খবর রাখতে সংবাদ পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। বই পড়া, সংবাদ লেখার অনুশীলন ও কৌশল জানাও একান্ত জরুরী।
তার মধ্যে থাকতে হবে জবাবদিহিতার মানসিকতা ও সহনশীলতা। সাংবাদিককে সব ধরনের সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হয়। ভুল স্বীকার করাও সংশোধনের সদিচ্ছা থাকতে হয়। প্রতিবাদ, চাপ ও হুমকির মুখে দায়িত্ব পালনের সাহস থাকতে হয়। এছাড়া সংবেদনশীল ইস্যুতে প্রতিবেদন করার সাহস ও প্রয়োজন। সংকটকালে দায়িত্বশীল আচরণ। দুর্যোগ সহিংসতা মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে মানবিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হয়।
মনে রাখতে হবে যে, হুট করেই নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তোলা যায় না! ধীরে ধীরে অভিজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে সাংবাদিক হওয়া যায়। অবশ্য হুট করে সাংবাদিক সাজা যায়! হওয়া যায় না!?জাতীয় সংবাদপত্রে কাজ করতে রিপোর্টিং করার চেষ্টা থাকতে হয়। তবে ফেক নিউজ এড়িয়ে চলতে হবে। কোনো খবর প্রচারের জন্য পাঠানোর আগে ২- ৪টি সূত্র থেকে যাচাই বাছাই করতে হবে। মানহানি বা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের বিষয়ে স্পষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে। প্রয়োজনে আইনি ও নৈতিক সাংবাদিকতা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নিতে পারলে চমৎকার ফলাফল পাওয়া যায়। মনে রাখা আবশ্যক সাংবাদিক সাজা সহজ। হওয়া বড়ই কঠিন!? এজন্য প্রচুর ঘাঁটাঘাঁটি খাটাখাটির বিকল্প নেই!? লেখালেখির মাধ্যমে মফস্বল থেকে সাংবাদিক হয়ে উঠে আসা আরো ব্যাপক কঠিন! ভাল সাংবাদিকদের সান্নিধ্য ছাড়া ভাল সাংবাদিক হওয়া আরো কঠিন ব্যাপার। আবার ও মনে করিয়ে দিচ্ছি, সাংবাদিক সাজা সহজ। হওয়া খুবই কঠিন!?
লেখক একজন গণমাধ্যম কর্মী

















