⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

নেইমার কারও জন্য উদাহরণ হতে পারে না: ব্রাজিলের সাবেক কোচ

HTML tutorial

ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সম্ভাবনাময় ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল নেইমারকে। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পরবর্তী যুগে ব্রাজিলিয়ান তারকাই বসবেন সেরার আসনে- এমনটাই ধারণা ছিল বেশিরভাগের। সম্ভাবনা জাগালেও নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি।

একের পর এক চোটে পুরোপুরি অঙ্কুরিত হওয়ার আগেই যেন বাসি হয়ে যাওয়া ফুল হয়ে যেতে বসেছেন ৩৩ বছর বয়সেই! চোটের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আর নানান বিতর্কেও নেইমার খবরের শিরোনাম হয়েছেন বারবার।

অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, দুই বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমার ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাবেন কি না, সেটারও নিশ্চয়তা নেই। নেইমারের পারফরম্যান্সের অবনতি, জীবনযাপন ও ফিটনেস নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন এমারসন লেও। ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের গোলকিপার ও ব্রাজিলের সাবেক কোচ জানিয়েছেন, নেইমার কারও জন্যই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারেন না।

সিএনএন এস্পোর্তেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমারসন বলেছেন, ‘নেইমার এখন আর কারও জন্যই উদাহরণ নয়।’ এক সময় নেইমার যেমন মানের খেলোয়াড় ছিলেন, এখন ওই পর্যায়ে নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এমনিতেই জাতীয় দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে অনেকেই নেইমারকে কাঠগড়ায় তুলতেন। ব্রাজিলের সাবেক কোচের এ মন্তব্য পুরোনো সেই বিতর্কে নতুন করে জ্বালানি জুগিয়েছে।

এমারসন এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং মাঠের বাইরে নেইমারের আচরণ নিয়েও অভিযোগ আছে তাঁর। ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী এ গোলকিপারের দাবি, ‘৩৩ বছর বয়সী নেইমার আর নিজের যত্ন নিচ্ছে না। এমনকি আগের মতো ম্যাচেও প্রভাব ফেলতে পারছে না।’

কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত একবারও জাতীয় দলে ডাক পাননি নেইমার। সাবেক রেয়াল মাদ্রিদ কোচ কয়েকদিন আগে জানিয়েছেন, ফিট থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলে দেখা যাবে নেইমারকে।

তবে এমারসন আর নেইমারের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। সাবেক এ কোচের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমার যে তেমন প্রভাব ফেলবে, এমনটা মনে হয় না তাঁর।

সমস্যাটা কোথায়, সেটা নিয়েও মন্তব্য করেছেন এমারসন। ৭৬ বছর বয়সী সাবেক এ তারকা জানিয়েছেন, দক্ষতায় নেইমারের ঘাটতি নেই। কিন্তু শারীরিকভাবে আগের অবস্থায় নেই নেইমার। ব্রাজিলের সাবেক কোচ বলেছেন, ‘ওর (নেইমারের) মাথায় খেলার চিন্তাটা এখনো আছে, কিন্তু ওর শরীর আর সেভাবে সাড়া দিতে পারে না। যখন যে খেলাটা শুরু করতে চায়, এটাও জানে যে কী করতে হবে। কিন্তু সেভাবে কিছু করতে পারছে না। ওর পেশির প্রতিক্রিয়া আগের মতো নেই। অনুশীলনেও ধারাবাহিকতা নেই। ও আর আগের সেই অ্যাথলেট নেই। এটা মেনে নিতে হবে।’

এমারসন আরও জানিয়েছেন, রাগ বা ক্ষোভ থেকে নয়, বরং নেইমারের ওপর হতাশা থেকে এমন কথা বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, ব্রাজিলের জাতীয় নায়ক হওয়ার মতো সম্ভাবনা ছিল নেইমারের। কিন্তু দায়িত্ববোধের অভাবে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছেন নেইমার- এমনটাই মনে করেন সাবেক এ কোচ।

এমারসন যোগ করেন, ‘নেইমারকে নিয়ে আমার আর খুব বেশি কিছু বলার নেই। আমার মনে হয়, একটা বিষয় আরেকটা সঙ্গে জড়িত: মানুষটা মাঠের বাইরে যেমন হবে, ভেতরেও সেটার প্রভাব পড়বে। আর এ কারণেই ও এখন কারও জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত নয়।’

সাবেক এ কোচ আরও বলেন, ‘ও এখনও ফুটবল খেলছে। ওর কাছে থেকে আগের মতো গতি আর দৌড় প্রত্যাশা করছে সবাই। ওটা আর আগের মতো নেই। কারণ ও প্রস্তুত নয়। এর ফলে কী হচ্ছে? ও চোট আর অন্যান্য সমস্যায় পড়ছে। যে অসাধারণ ফুটবলার হিসেবে সে শুরুটা করেছিল, কিন্তু আজ নেইমার সেই পর্যায়ে নেই।’

পুরোনো স্মৃতি মনে করে এমারসন আরও বলেন, ‘সান্তোসের বিপক্ষে আমাদের খেলা ছিল। ও পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। ওকে বললাম, “দেখো ছেলে, নিজের যত্ন নিও। বিশ্বকাপে আমাদের তোমাকে প্রয়োজন।” কিন্তু ও সেটা করেনি।’

এমারসনের মতে, ব্রাজিল নেইমারকে ঘিরে দল গড়ার বড় একটা সুযোগ হাতছাড়া করেছে। তবে এজন্য নেইমারকে যাতে ঘৃণার পাত্র বানানো না হয়, সেটা উল্লেখ করে এমারসন জানিয়েছেন, সমর্থকদের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে, নেইমার আর ইউরোপ দাপিয়ে বেড়ানোর মতো খেলোয়াড় নন।

HTML tutorial

Leave a Reply