⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

রংপুরে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা: ৪ আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে

HTML tutorial

রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে দুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের তারাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক কৃষ্ণ কমল রায় এ আদেশ দেন।

রংপুর কোর্ট ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, নিহত রুপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে গত রোববার দুপুরে তারাগঞ্জ থানায় ৭০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৯ আগস্ট (শনিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠাপুকুরের ছড়ান বালুয়া এলাকা থেকে ভাগনি জামাই প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে বাড়ি ফেরার পথে বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয়রা রুপলাল ও প্রদীপকে থামিয়ে তল্লাশি চালায়।

এসময় প্রদীপের ভ্যানে থাকা বস্তা থেকে চারটি ছোট প্লাস্টিকের বোতল বের করে জনতা। একটি বোতল খোলার পর ভেতরের তরলের ঘ্রাণে দুজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে সন্দেহ আরও বেড়ে গেলে তাদের ওপর হামলা শুরু হয়।

অচেতন অবস্থায় তাদের বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রুপলালকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় প্রদীপকে, কিন্তু ভোরে তিনিও মারা যান।

এসময় তাদের কাছে স্পিড ক্যানের বোতলে দুর্গন্ধযুক্ত তরল এবং কিছু ওষুধ পাওয়া গেলে উত্তেজিত জনতা তাদের বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে রুপলাল দাসকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে প্রদীপ লালকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ভোরে তিনিও মারা যান।

এ ঘটনার পরদিন রাতেই পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন—সয়ার ইউনিয়নের বালাপুর এলাকার এবাদত হোসেন (২৭), বুড়িরহাট এলাকার আক্তারুল ইসলাম (৪৫), রফিকুল ইসলাম ও আরও একজন।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ হলে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই এসআই ও ছয় কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

দুজনকে হত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায়, চলন্ত ভ্যানগাড়ির ওপরে শুয়ে থাকা দুজনকে বেধড়ক মারপিট করে উৎসুক জনতা।

একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হয়। আহত অবস্থায় একজন অন্য আরেকজনকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার রাতে রংপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয় এসআই আবু জোবায়ের, এসআই সফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল ফারিকুদ আখতার জামান, ধিরাজ কুমার রায়, হাসান আলী, ফিরোজ কবির, মোক্তার হোসেন ও বাবুল চন্দ্র রায়কে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রংপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে এরা তারাগঞ্জ থানার মোবাইল টিমে দায়িত্বে ছিলেন। অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় সাময়িক বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু জোবায়েরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারাগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামকে।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা মামলার তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’

গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় চোর সন্দেহে রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ দাসকে (৩৫) আটক করে স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক। পরে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়।

নিহতের পরিবার, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রুপলাল দাসের মেয়ে নুপুর দাসের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল মিঠাপুকুর উপজেলার শ্যামপুর এলাকার লালচাদ দাসের ছেলে ডিপজল দাসের সঙ্গে। বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করার কথা ছিল পরদিন রোববার (১০ আগস্ট)।

শনিবার বিকেলে মিঠাপুকুর থেকে ভাগ্নে জামাই প্রদীপ দাস ভ্যান চালিয়ে শ্বশুরবাড়ি আসছিলেন। পথে কাজীরহাট এলাকায় রুপলালকে ফোন দিলে তিনি গিয়ে ভ্যানে ওঠেন। রাত ৯টার দিকে বটতলায় পৌঁছালে কয়েকজন স্থানীয় লোক তাদের চোর সন্দেহে থামায়।

হত্যার ঘটনায় নিহত রুপলালের স্ত্রী ভারতী রানী দাস বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৫০০ থেকে ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও মামলার আসামি ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার হত্যার বিচার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয়রা।

HTML tutorial

Leave a Reply