চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনের রেলপথে হাতির চলাচল নিরাপদ করতে স্থাপন করা হচ্ছে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা। এর মাধ্যমে রেললাইনে হাতির অবস্থান আগে থেকেই জানতে পারবেন ট্রেন চালকেরা। ফলে দুর্ঘটনা ও ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু বন্ধ হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে। তবে বন বিভাগ বলছে, ক্যামেরার পরিবর্তে রেলপথের দুপাশে প্রতিবন্ধক বেড়া দেওয়া বেশি কার্যকর হবে।
গত ২২ জুলাই রাতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে হাতি আর ট্রেনের মুখোমুখি অবস্থানের দৃশ্য ধারণ করেন যাত্রীরা। ট্রেন চালকের দক্ষতায় সেদিন বেঁচে যায় হাতিটি।
চট্টগ্রামের উপ-বন সংরক্ষক আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ১০৩ কিলোমিটার রেলপথের ২৭ কিলোমিটার সংরক্ষিত বনের ভেতরে পড়েছে। হাতি চলাচলের এই করিডোরে বিভিন্ন সময়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। গেল বছর ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায় ১০ বছর বয়সী একটি হাতি।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, রেলপথে হাতি চলাচলে দুর্ঘটনা এড়াতে এ বছরের শেষে স্থাপন করা হচ্ছে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা। রেলের কেন্দ্রীয় সিগন্যালিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে এই ক্যামেরা। রেলপথ এবং আশপাশে হাতির অবস্থান শনাক্ত হলে সাথে সাথে জানানো হবে ট্রেন চালকদের।
চট্টগ্রামের চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্টার গাজী মো. বাহার উদ্দিন বলেন, ক্যামেরা স্থাপনে সংরক্ষিত বনে কোনো সমস্যা হবে না। তবে হাতি চলাচলের করিডোরে রেল লাইনের দুপাশে ১০ কিলোমিটার জুড়ে প্রতিবন্ধক স্থাপন করলে তা বেশি কার্যকর হবে।
২০১৬ সালের সর্বশেষ জরিপে দেশে ২৬৮টি বন্য হাতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনে ছিল ৪০টির বেশি হাতি।

















