শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের টালিয়াপাড়ার সামাজিক কবরস্থানের জমি দখল সংক্রান্ত ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার তথ্যটি মিথ্যা এবং উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে মোশাররফ হোসেন। ৩০ আগস্ট শনিবার দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে মোশাররফ হোসেন বলেন, সম্প্রতি আমার বিরুদ্ধে শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের “টালিয়াপাড়া” গ্রামের কবরস্থানের রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য হওয়া সংক্রান্ত যে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। সরকারি চাকরিরত অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের কমিটির সদস্য হওয়া আইনগতভাবে অপরাধ। সুতরাং আমি কখনোই আওয়ামী লীগের কোনো কমিটির সদস্য ছিলাম না।
আমি আমার নিজস্ব ক্রয়কৃত ২৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ জমিতে বাড়ি নির্মাণ ও ভোগদখল করে আসছি। জমিটি বিভিন্ন মালিকের কাছ থেকে যথাযথভাবে রেজিস্ট্রিকৃত ও নামজারিকৃত। এর মধ্যে ২০১৯ সালে মোঃ হাফিজ উদ্দিনের নিকট হতে ৫ দশমিক৬৯ শতাংশ জমি এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে আকলিমা খাতুনের নিকট থেকে ১৯ শতাংশ জমি ক্রয় করি। অতিরিক্ত ১ শতাংশ জমি ক্রয়ের মাধ্যমে মোট ২৫ দশমিক৬৯ শতাংশ জমি আমার মালিকানায় আসে, যা আমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে বসবাস করছি।
কবরস্থানে যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০২০ সালের জুলাই মাসে বাছের উদ্দিনের কন্যা আলেছা বেগমের ছেলেদের নিকট থেকে কবরস্থানের নামে ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এ রাস্তা দিয়ে গত চার বছরে প্রায় ২০ থেকে২৫টি লাশ দাফনের জন্য কবরস্থানে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বাছের উদ্দিনের ছেলে জহুরুল ইসলাম ও তার পরিবার সমাজের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহায়তায় জোরপূর্বক উক্ত রাস্তা দখল করে নেয়। ১ হাজার১৫৩ নং দাগে বাছের উদ্দিনের নামে যেই জমি রয়েছে, তার হিস্যা অনুযায়ী জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা হলেই কবরস্থানের রাস্তার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হবে। অতএব, “কবরস্থানের রাস্তা দখল করে আমি ঘর নির্মাণ করেছি”—এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এসময় মোশাররফ হোসেনের পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওই গ্রামের সহস্রাধিক লোকজন মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে কবরস্থানের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ ও আওয়ামী লীগের দাপটে স্থানীয়দের হয়রানির অভিযোগ করেন।

















