প্রকৃতিতে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ গোটা দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে আছে। গত তিনদিন ধরে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টি ঝরছে।
বৃষ্টির কারণে বুধবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে শহরের অধিকাংশ দোকানপাট। বিভিন্ন নিচু স্থানে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নদ-নদীর পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণির মানুষ। তবে সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে নিত্য খেটেখাওয়া শ্রমজীবীরা। তিন দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমনের ক্ষেত। ফলে ফসল পচে যাওয়ার শঙ্কা করছেন চাষিরা।
গতকাল বুধবার রাত থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টি। বুধবার সকাল ৯টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কলাপাড়ায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে থমকে গেছে দৈনন্দিন কাজের গতি, নেমে এসেছে স্থবিরতা। ফলে পায়রা বন্দরসমূহকে চার নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
তবে আগামী ৫ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে এবং এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকা দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
কলাপাড়া পৌর শহরের ভ্যানচালক নাজমুল বলেন, ‘গত তিনদিন ধরেই আমাদের এদিকে বৃষ্টি ঝরছে। তবে বুধবার রাত থেকে এক নাগাড়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এ কারণে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। শহরে মানুষজনের আনাগোনা কম থাকায় মালামাল বিক্রিও নেই।’
লঞ্চঘাট এলাকার পান বিক্রেতা ধীরেন্দ্রনাথ বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে বাজারে আসছে না মানুষ। তাই বিক্রি কমে গেছে।’
মহিপুর সদর ইউপির বিপিনপুর এলাকার চাষি শাহ আলম বলেন, ‘শুধু আমি নয় এলাকার অনেক কৃষকের আমনের বীজ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু অতি বৃষ্টির কারণে এখন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে আছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বীজ পচে যেতে পারে।’
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মৎস্য চাষি মাহতাব হোসেন বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে মাছের ঘের পুকুর তলিয়ে গেছে। এতে আমার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, আগামী পাঁচদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে এবং দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

















