জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন যে নারী শিক্ষার্থীকে পড়াতেন; তারই পরিকল্পনায় তিনি খুন হয়েছেন। হত্যার জন্য ২৩ দিন ধরে তিনি ও এ ঘটনায় আটক যুবক পরিকল্পনা করেন। আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশ বলছে, ওই নারী শিক্ষার্থী একই সঙ্গে জোবায়েদ আর মো. মাহির রহমানের সঙ্গে প্রেম করতেন, এক পর্যায়ে সেটি নিয়মিত করতে না পারলে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) নজরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
এরআগে এদিনই বংশাল থানায় জোবায়েদ হত্যার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাই এনায়েত হোসেন। পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলা করা হয়েছে। এতে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত রোববার রাতে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর গলায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
জোবায়েদ যে বাড়িতে খুন হয়েছেন, এক বছর ধরে ওই বাড়িতেই নারী শিক্ষার্থীকে পড়াতেন তিনি। ঘটনার পর মো. মাহির রহমানকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় ওই নারী শিক্ষার্থীকেও। জোবায়েদ হোসেনকে হত্যার পর দৌড়ে পালান মাহির আর আইলান নামের আরেকজন।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, প্রথমে ভয়ভীতি দেখাতে চাইলেও ওই ছাত্রীর চাপে হত্যার পরিকল্পনা করেন মাহির। তিনি নিজেই গলায় কোপ দেন জোবায়েদের। জোবায়েদকে হত্যার সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন ওই ছাত্রী। জোবায়েদ প্রাণ ভিক্ষা চাইলেও তাতে মন গলেনি তার।
এরআগে সোমবার সকালে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংবাদিকদের জানান, ওই ছাত্রীর সঙ্গে মাহির রহমানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাহির বুরহান উদ্দিন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং মেয়েটি ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন।
ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। কিছুদিন আগে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মেয়েটি মাহিরকে জানান, এখন জোবায়েদকে পছন্দ করেন তিনি। এ নিয়েই দ্বন্দ্বে খুন হন জোবায়েদ।

















