আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা কাটছে না। তবে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি নাজুক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ তাদের। সম্ভাব্য হুমকির বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সরকারকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কাটছে না অনিশ্চয়তা। খোদ প্রধান উপদেষ্টার অভিযোগের কথা জানান প্রেস সচিব।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে যাতে নির্বাচন না হয়। এগুলোর কিছু কিছু লক্ষণ এখন দেখা যাচ্ছে, সামনে আরও আসবে। এজন্য আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।’
বিগত নির্বাচন গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এবার তারা কতটা সহায়ক হবে এ নিয়েও রয়েছে সংশয়। সম্প্রতি গণঅধিকার নেতা নুরুল হক নুরের ওপর হামলা নির্বাচনে অস্থিরতার পূর্বাভাস বলেই মনে করছেন অনেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বাড়াতে হবে গোয়েন্দা তৎপরতা। সম্ভাব্য হুমকির বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে নিতে হবে প্রস্তুতি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাঈম আসফাক চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন গয়েন্দা সংস্থা আছে। কোন কোন জায়গা থেকে কী পরিমাণের হুমকি আসতে পারে? তাদের প্রাধান্যগুলো কী? এগুলো বিবেচনা করে তাদের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সেগুলো সরকারকে দেবেন।’
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের ঘাটতি শঙ্কার সবচেয়ে বড় কারণ বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘নাজুক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হলো নির্বাচন। নির্বাচন হতেই হবে, নির্বাচন ছাড়া আর কোনো বিকল্প বাংলাদেশের সামনে এই মুহূর্তে নাই।’
নির্বাচনের আগে নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনিক দূর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘প্রশাসনিক যে দুর্বলতা আছে সেটা বাকি যে পাঁচ মাস আছে, সে সময়টাতে এটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো। এটা যদি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় এবং যদি রাজনৈতিক দলগুলো সহমতে আসে তাহলে নির্বাচন করাটা এমন কোনো বড় কঠিন কাজ হবে না।’
রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য যাতে বিরোধে পরিণত না হয় সেই প্রত্যাশাও জানান বিশ্লেষকরা।

















