বেনাপোল সংবাদদাতা :
দেশের বাজারে চালের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর, বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট ২০২৫) রাতে ভারত থেকে প্রথম চালান প্রবেশ করে বেনাপোল বন্দরে। ফলে চাল আমদানির চার মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও সচল হলো বেনাপোল স্থলবন্দর।
বন্দর সূত্র জানায়, রাত ৯টার মধ্যে ভারতীয় ৯টি ট্রাকে করে মোট ৩১৫ মেট্রিক টন মোটা চাল এসেছে বেনাপোলে। এতে দেশের বাজারে চালের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আমদানিকারকরা।
বেনাপোলের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাজি মুসা করিম অ্যান্ড সন্স-এর স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ জানান, “ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে গত মঙ্গলবার থেকে চালবোঝাই ৯টি ট্রাক অপেক্ষমাণ ছিল। সেগুলো বৃহস্পতিবার রাতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এখন কাস্টমসে বিল অব এন্ট্রি জমা দিয়ে ছাড়করণের প্রক্রিয়া চলছে।”
তিনি আরও জানান, পেট্রাপোল বন্দরে আরও বেশ কয়েকটি চালবোঝাই ট্রাক প্রস্তুত রয়েছে। তারা পর্যায়ক্রমে বেনাপোলে প্রবেশ করবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুর রহমান জানান, “দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এদিন ভারতীয় চাল আমদানির সূচনা হলো। শুরুতেই ৯ ট্রাকে ৩১৫ মেট্রিক টন চাল এসেছে। আগামীতে আরও চাল আসবে। তবে আমদানি শুল্ক কমানো না হলে বড় আকারে চাল আমদানি সম্ভব হবে না।”
এদিকে, বেনাপোল উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ বলেন, “চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সর্বশেষ চাল আমদানি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার থেকে আবারও চাল আসতে শুরু করেছে। আমরা দ্রুত পরীক্ষার মাধ্যমে ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা করছি যাতে আমদানিকারকরা দ্রুত চাল ছাড় করতে পারে।”
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চালের আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং খুচরা দামে স্বস্তি আসতে পারে। তবে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে আমদানিকারকরা কতটা আগ্রহ দেখাবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

















