পুশ-ইন করা ভারতের নাগরিকদের সেদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা জানান, সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে সরকার নমনীয় নয়, বরং জড়িতদের বিচারের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে দিল্লিকে।
এ সময় তৌহিদ হোসেন আরও জানান, মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা দেবে সরকার। এছাড়াও পাল্টা শুল্ক আরোপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান বলে জানান তিনি।
জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানের মাসব্যাপী ফটোগ্রাফি এবং গ্রাফিতি প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। এরপর পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যাসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা মানছে না ভারত। অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া না মেনে পুশ-ইন করছে বিএসএফ। খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘যারা ভারতীয় তারা অবশ্যই ভারতে চলে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। হয়ত প্রসেস করতে দুই চারদিন সময় লাগতে পারে। আমরা মোটেই এ বিষয়ে নমনীয় নই। আমরা স্পষ্ট বলেছি যে, জাস্ট কেউ একজন আইন ভঙ্গ করছে বলে তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে এটার অধিকার কোনো সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নেই। এটা বেআইনি এবং আমরা এটার বিচারও দাবি করেছি। যারা এ কাজটা করছে তাদের বিচারটা যেন ভারতীয় আইনেই করা হয়। আমাদের অবস্থান এখনও এটিই আছে। আমরা নিয়মিত আমাদের প্রতিবাদ বহাল রেখেছি।’
মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স কথা জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুদেশ এক হয়ে কাজ করবে বলেও জানান তৌহিদ হোসেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে যদি অপরাধ প্রমাণিত হয় তাহলে ৭ বছরের জেল হতে পারে। আর যদি খালাস হয় তাহলে তো হবেই। আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে। এরপরেও কিন্তু আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, একই অভিযোগে। আরও কিছু গ্রেপ্তার হবে এ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দু’দেশের সরকার চাইলেই নন-ডিসক্লোজার চুক্তি করতে পারে।

















