⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

শেরপুরে তিনশ বছরের পুরনো বৈশাখী মেলায় ছিলো জনতার উচ্ছাস : অর্ধকোটি টাকার সাজ মোড়া বিক্রি

HTML tutorial

বিশেষ প্রতিনিধি :

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে শেরপুর জেলার সবচেয়ে প্রাচীন চান্দের নগরে তিনশ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলায় ছিলো জনতার ওপচে পড়া ভীড়। গ্রাম বাংলার নানা খেলা উপভোগ আর সাজ মোড়া কেনার ধুম ছিলো চোখে পড়ার মতো। এ মেলাকে কেন্দ্র করে দাওয়াত দেয়া হয়েছিলো জ্বি-জামাইদেরও।
পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলাসহ নানা আয়োজনে উৎসবে মেতে উঠে সবশ্রেণিপেশার মানুষ। এরমধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন প্রায় তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী চান্দের নগর ঘেরামারা বৈশাখী মেলায় ছিলো বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি। মেলায় লম্বা সারিতে শতাধিক ছোট বড় ব্যবসায়ী বিভিন্ন ধরনের সাজ, মোড়া ও কালাই ভাজার পসরা সাজিয়ে বসে। আর এ দিনটির জন্য তাদের প্রস্তুতি ছিলো আগে থেকেই। প্রতিটি দোকানেই সাজ মোড়া বিক্রি হয় ৫০ হাজার থেকে একলাখ টাকা পর্যন্ত। এতে অর্ধকোটি টাকার সাজ মোড়া বিক্রি হয় এ মেলায়।
ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা প্রতি বছর এই মেলায় আসি। যেসব খাবার নিয়ে আসছি সব সন্ধার মধ্যেই বেচা হয়ে যাবে। এ বছর মানুষের উপস্থিতিও বেশি।
এ এলাকার মানুষেরা এদিনে প্রায় সবাই সাজ মোড়া ক্রয় করে থাকে। আব্দুর রহিম বলেন, আমার মায়ের জন্য মোড়া কিনলাম। তার খুব পছন্দের খাবার এগুলো। কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, আমরা এদিনটার জন্য অপেক্ষায় থাকি। মেলা থেকে সাজ মোড়া, ওরফা কিনে নিয়ে যাই। বাড়িতে সবাই মিলে খাই। এতে আনন্দই আলাদা।
মেলায় আয়োজন করা হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গাঙ্গী খেলা, ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতাসহ নানা খেলা-ধুলার। অনেকেই দাওয়াত দেন ঝি-জামাই ও আত্মীয়দের। দিবসটিকে তারা ঈদের দিনের আনন্দের সাথে তুলনা করে থাকেন।
স্বপ্না খাতুুন বলেন, আমরা পোলাপান নিয়ে প্রতিবছরই বাপের বাড়ি আসি এই মেলা দেখতে। খেলা দেখি, কেনাকাটা করি বাড়ির সবাই মিলে খাওয়াদাওয়া করি। আমগো খুব ভালা লাগে। ষাটোর্ধ আব্দুল করিম বলেন, এটা আমগোর চৌদ্দ পুরুষ থাইকে কইরা আইতাছে। আমরাও করতাছি।
সওয়াররা সাকিব মিয়া বলেন, আমরা বাপদাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো ঘোড়দৌড় খেলায় যুক্ত আছি ।

প্রায় তিনশ বছরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পরবর্তীতেও এমন আয়োজন করবেন বলে জানান ইউপি সদস্য মোঃ সাধু মিয়া।
ধলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, আমাদের এ এলাকার কৃষক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ পহেলা বৈশাখের দিনটি উৎসব হিসেবে পালন করে থাকে। দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজনরা আমাদের এলাকায় আসে।

নববর্ষ উপলক্ষে শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় ছোট বড় আরে অন্তত অর্ধশতাধিক বৈশাখী মেলার।

HTML tutorial

Leave a Reply