⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে শেরপুরে বিএনপির বিশাল বিজয় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

HTML tutorial

শাহরিয়ার শাকির :

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শেরপুর জেলা বিএনপির বিশাল বিজয় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে

৬ আগষ্ট বিকেলে জেলার প্রতিটা উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে শহরের থানা মোড়ে মিলিত হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয় থানা মোড়। শেরপুর শহর, সদর উপজেলা, নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা থেকে ঢাকডোল বাজিয়ে নানা রঙ্গের পোষাক পড়ে নেতাকর্মীরা মনের আনন্দে মিছিল করে সমাবেশে যোগদেন। এরফলে সারা শেরপুর জেলা শহরে যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্ব বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক সাংসদ মাহমুদুল হক রুবেল, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম খায়ের, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ, যুগ্ম আহবায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পিপি এড. আব্দুল মান্নান, আবু রায়হান রুপম, কামরুল ইসলাম, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাইফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরীসহ অনেকেই।

সমাবেশে বিএনপি ছাড়াও যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এড. সিরাজুল ইসলাম স্বাগত ভাষনে বলেন, শেখ মুজিব একদলীয় বাকশাল কায়েম করে দেশের মানুষের অধিকার ও গনতন্ত্র ধ্বংস করেছিলো। যে কারণে ৭৫ সালে অভ্যুত্থান হয়েছিলো। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে শুধু গণতন্ত্র নয় দেশকে ধ্বংশ করেছিলো। ভারতের ধাসত্বে পরিনত করেছিলো দেশকে। বাবার পথ ধরে তাকেও ছাত্র জনতার আন্দোলনে ও গণ অভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালাতে হয়েছে।

সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক সাংসদ মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, এশিয়া মহাদেশে এমন কোন নজির নেই যে একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ সকল জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীরা একসাথে পালিয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশ তা হয়েছে। গত ১৫বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশটাকে খেয়ে ঝাঁঝরা করেছে। বর্তমানে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের দোসররা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে নানামুখি ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কাজেই জনগণকে সাথে নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান তিনি।

জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, যারা বিগত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে হামলা মামলার স্বিকার হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তারাই দলীয় পদ পাবেন, সামনের কাতারে থাকবেন। পাচঁ তারিখের পরের বিএনপিরা পিছনে থাকবেন। আমরা চাই সবাই মিলে আগামী নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো।

ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেত্রী ও ২০১৮ সালের আলোচিত এমপি প্রার্থী ডা: সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমাদের মা হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া, আমাদের দেশ নায়ক হচ্ছেন তারেক রহমান। ওনারা যাকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দিবেন তাকেই আমরা এমপি বানাবো। শেরপুর জেলার তিনটি আসনে যেই ধানের শীষ প্রতীক পাবন আমরা তার নির্বাচন করে বিজয়ী করে পিছিয়ে পড়া শেরপুর জেলার উন্নয়ন করবো। তিনি বলেন, যারা জুলাই বিপ্লবে শহীদ হয়েছেন তাদেরকে আমরা কোনদিন ভূলবোনা। তাদের জন্যই আমরা আজ মুক্তভাবে সভাসমাবেশ করতে পারছি। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের অবদান অনন্য। দীর্ঘ ১৭ বছর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নিরবচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে। এই সংগ্রামে বহু নেতা গুম-খুন হয়েছেন, লক্ষ নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলায় কারাগারে গেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তবুও তারা রাজপথ ছাড়েননি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটে এবং শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন।

শেরপুর শহর বিএনপির আহ্বায়ক পিপি এডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, নির্বাচন নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে, তারাই নির্বাচনে যেতে ভয় পায়। এসব দল নির্বাচনে যেতে চায় না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লড়াই চলবে এবং যতদিন নির্বাচন না হবে, ততদিন রাজপথে থাকবে বলে ঘোষণা দেন নেতারা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার বিকেলে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা। পরে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে একটি বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সার্কিট হাউসের সামনে পুলিশ প্লাজার কাছে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন।

সমাবেশে শহীদদের স্মরণ করে নেতারা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অঙ্গীকার করেছেন। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে চাকরি দেওয়া হবে।

এসময় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু রায়হান রুপন বলেন, একটি দল চব্বিশের জুলাইকে ‘হাইজ্যাক’ ও বিজয়কে দলীয়করণের চেষ্টা করছে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টের পতন হলেও তাদের লড়াই সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। যতদিন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন না হবে, ততদিন বিএনপির আন্দোলন চলবে। কিছু দল নির্বাচনে ভয় পেয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। জনগণের দাবি যে কোনো মূল্যে অবিলম্বে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে।

যুগ্ম-আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম বলেন, দলের নির্যাতিত নেতাদের বাদ দিয়ে অন্যদের দায়িত্বে আনা হলে আমরা মেনে নেবোনা। আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যহত রাখবো। দু:সময়ে আমরা দলের হয়ে কাজ করেছি। সুদিনে ত্যাগীদের উপেক্ষা করা হলে দু:সময়ে কাউকে খুজে পাওয়া যাবেনা।

এদিকে সকল পক্ষ মিলে জেলা বিএনপির বিজয় মিছিল সমাবেশ সফল ও একই মঞ্চে বক্তব্য রাখাকে জেলাবাসী ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

HTML tutorial

Leave a Reply