উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে না ফেরার দেশে চলে গেল অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিয়া (১৫)।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, ‘মাহিয়ার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু বিকেলের দিকে সে মারা যায়।’
মাহিয়ার মা আফরোজা বেগম জানান, আমার মেয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। তারা তিন বোন ছিল, মাহিয়া ছিল মেজ। পাঁচ বছর আগে তাঁর বাবা মারা যায়। বর্তমানে তারা উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে নিজেদের ফ্ল্যাটে থাকত।
মাহিয়ার মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাচ্চা সকাল সাতটায় বাসা থেকে বের হয়, সকাল আটটা থেকে ক্লাস শুরু হয়। দুপুর একটাই তাদের ক্লাস শেষ হয়। এই মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ জোর করে বাচ্চাদেরকে আটকে রাখে কোচিং করার জন্য। তারা বাচ্চাদেরকে খাঁচায় করে আটকে রাখে। বাধ্য করা হয় কোচিং করার জন্য। যদি একটায় তারা বের হতে পারত, তাহলে হয়তো তারা বেঁচে যেত। এমন ভাবে তারা ক্লাসরুমকে খাঁচার মতো তৈরি করে রেখেছে চাইলেও বের হতে পারে না বাচ্চারা। তারা যদি খাঁচার মত করে আটকে না রাখত, ঘটনার পরেও অনেক শিশু বাচ্চারা বের হতে পারত। আমার বাচ্চা তো চলে গেল, এই দায়-দায়িত্ব এখন কে নেবে।’
এর আগে প্রেস উইংয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে ৪৩ জন দগ্ধ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর সিএমএইচে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের এবং ভর্তি আছেন ১৫ জন। বিমান দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সব মিলিয়ে ঢাকার ৬টি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওই ঘটনায় দগ্ধ ৫৫ জন।
তবে, মাহিয়ার মৃত্যুতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩১ জনে। এর মধ্যে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৩ জন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন ১ জন।

















