⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

ফেনীতে পানিবন্দী লাখো মানুষ, উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী

HTML tutorial

ভারী বৃষ্টি ও উজানের পানিতে বছর না পেরোতে ফের বন্যার কবলে পড়েছে ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২১টি স্থান ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকে প্লাবিত একের পর এক জনপদ। বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী। ফেনীতে সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, বন্যার্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য স্পিডবোট নিয়ে আসা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বন্যাকবলিত পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ছাগলনাইয়ার দক্ষিণ সতর এলাকার বাসিন্দা রবিউল হাসান বলেন, ‘বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়িসহ সব তলিয়ে যাচ্ছে। গেল বছরের বন্যায় এমন পরিস্থিতিতে পড়ছিলাম। দেশে ক্ষমতা আর সরকারের পরিবর্তন হলেও আমাদের ভাগ্য কখনো পরিবর্তন হয় না।’

নজরুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘সড়কে পানি থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্কেও সমস্যা। এখনো শুকনো খাবার বা কোনো ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা পাইনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তার দায়সারা কাজের কারণে প্রতি বছর এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গেল বছরের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখী।’

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, জেলায় টানা ৪ দিন ধরে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবারও জেলাজুড়ে হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, ‘দুপুর ১টার পর নদীর পানি বিপৎসীমার ২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতে পানি কমলেও ভাঙনের কারণে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি কমার পর বাঁধ মেরামতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে ফেনীর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার আংশিক অংশে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করছে। জেলার ছয় উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

HTML tutorial

Leave a Reply