ঢাকা অফিস :
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রদের নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে। রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হয় এ পদযাত্রা। এক মাসে এ পদযাত্রার মাধ্যমে তারা তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলা সফর করবে।
এই পদযাত্রা ইতোমধ্যে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা, রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলা ঘুরে এখন খুলনা বিভাগে রয়েছে। গত মঙ্গলবার কুষ্টিয়া, মেহেরপুরের পর গতকাল বুধবার এনসিপির পদযাত্রা ছিল মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গায়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশের পর থেকেই এনসিপি নানা ধরনের মন্তব্য, সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। টিএসসিকেন্দ্রিক দল, ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতি-এমন নানা তকমায় এনসিপিকে জর্জরিত করা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের ঠিক আগের দিন আত্মপ্রকাশ করা দলটি রমজানের পুরো মাস কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম করতে পারেনি বললেই চলে। এসব বাস্তবতা সত্ত্বেও আত্মপ্রকাশের চার মাসের মাথায় এনসিপি দেশজুড়ে পদযাত্রা করার মতো কঠিন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রাম-শহর, পাড়া-মহল্লা ও বাজারে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মানুষের কাছে যাচ্ছেন, কথা বলছেন। মানুষ বুকে টেনে নিচ্ছেন ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সন্তানদের।
পদযাত্রার এসব কর্মসূচিতে দেখা যায়, প্রতিটি জেলা ও উপজেলার সভা-সমাবেশ কিংবা পথসভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিত হচ্ছে। কখনো ট্রাকে, কখনো পায়ে হেটে পথে-প্রান্তরে ঘুরছেন এনসিপি নেতারা। যেখানেই যাচ্ছেন শিশু-কিশোর, তরুণ-বৃদ্ধ থেকে সব বয়সী মানুষের কাছে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তারা। গ্রামের গৃহিনী থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ, স্কুলের শিক্ষার্থীরাও ছুটে আসছেন অভ্যুত্থানের নেতাদের সামনে থেকে এক পলক দেখতে, বর্ণনা করছেন গণ-অভ্যুত্থানে নিজ নিজ এলাকার লড়াই-সংগ্রাম। আপ্লুত মানুষ বেকে টেনে নিচ্ছেন গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের। তারাও গ্রামে-গঞ্জে হেটে হেটে শুনছেন মানুষের কথা, জানছেন তাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ও নতুন বন্দোবস্তের।
এছাড়াও এনসিপি নেতারা প্রতিটি জেলায় আন্দোলনে শহীদদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, কথা বলছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে, দিচ্ছেন শান্ত¦না। আবার সভা-সমাবেশে তুলে ধরছেন সেই এলাকার নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, নির্যাতন-নিপীড়নের তথ্য। গণ-অভ্যুত্থানের পরও আওয়ামী লীগের অলিগার্ক ও ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা যে বহাল তবিয়তে আছে সেই বক্তব্যও জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষকে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার মসনদ থেকে নামানো এবং বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ রুখে দেওয়ার যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সারাদেশের মানুষ জুলাই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, বাজী রেখেছিলেন নিজের জীবন। সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যে এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, বরং এখনো অনেকে পৃষ্টপোষকতা করছে, আগামী দিনেও পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত অপেক্ষা করছে- সেরকম বক্তব্য রাখছেন তাদের সামনে।
এনসিপি নেতাদের এই পদযাত্রা কর্মসূচি, সাধারণ মানুষের মাঝে তাদের মিশে যাওয়া এবং তাদের আবেক-অনুভূতি ধারণ করে বক্তব্য তুলে ধরায় দিনকে দিন তাদের সভা-সমাবেশে বাড়ছে মানুষের জন¯্রােত। তাদের এই কর্মসূচি দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে এনসিপি। প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যে তাদের যে জনপ্রিয়তার ভাটা দেখা গিয়েছিল এক কর্মসূচিতেই তারা বাজিমাত করছেন বলেও মনে করছেন তাদের কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করা ব্যক্তিরা।

















