⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

বগুড়ায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

HTML tutorial

‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, ধর্মীয় নয় ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই’ স্লোগানে বগুড়ায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে শহরের টেম্পল রোডস্থ সনাতন মন্দিরে সংগঠনের জেলা শাখার আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই অনুষ্ঠানে পালন করা হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী।

গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন নেতৃবৃন্দরা। হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি ডা: এন সি বাড়ই এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র-১ পরিমল চন্দ্র দাস। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কখনোই কোন বিশেষ দলের ছিল না। অতীতে কিছু দল নিজেদের স্বার্থে সনাতনীদের বিভিন্ন সময় ট্যাগ দিয়েছে। অন্যান্য ধর্মের ন্যায় সনাতন, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সকলে এই দেশের নাগরিক। রাষ্ট্রীয় অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে সকলেরই সমান অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে কোন ধর্ম, বর্ণ, কিংবা জাতিগত বিভেদ বা বৈষম্য নেই। রাজনৈতিক স্বার্থে বারংবার এই বৈষম্য তৈরি করেছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী।

তিনি আরও বলেন কোথাও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা হলে দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। দিনশেষে অবশ্যই দোষীদের আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও সংগঠন সম্পর্কে তিনি জানান বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ একসময় দেশের শ্রেষ্ঠ সংগঠন হয়ে উঠবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই সংগঠন যদি সারা বাংলাদেশে সক্রিয় থাকে তাহলে সংখ্যালঘুদের ওপর কেউ কখনও নির্যাতন করতে পারবে না। একই অনুষ্ঠানে তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন বগুড়ার কৃতি সন্তান বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শে বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক তার সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই একের পর এক ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সারাদেশে মসজিদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমভাবে মন্দিরের উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন। দেশের মানুষ আজ নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার মাধ্যমে যে ধারাবাহিকতা আগামীতেও যেন বজায় থাকে সেই লক্ষ্যে সরকারের প্রতি তিনি উদ্বার্ত আহ্বান জানান।

সনি কর্মমকার এর সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি ডা: এনসি বাড়ই বলেন, কোনো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেনো কোনো সমস্যা না হয় তা তারা নিশ্চিত করতে সম্মুখ সারিতে থেকে কাজ করে যাবেন। তাদের যেকোনো বিপদ ও প্রয়োজনে সংগঠনের পক্ষে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি। তিনি বলেন বিএনপি সরকার হিন্দুদের জন্য অনেক ভালো ভূমিকা রেখেছে। অতি শীগ্রই সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করা হবে এবং তাদের দাবীগুলো সদাশয় সরকার মেনে নেবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু সকল ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ ও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে উক্ত আয়োজনে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন এ্যাড. বার্নাড তমাল মন্ডল, সংগঠনের সহ-সভাপতি চন্দন কুমার চক্রবর্তী, বিজন কুমার, জাতীয় ক্রীড়াবিদ গোপাল তেওয়ারিসহ বগুড়ার ১৩টি উপজেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

HTML tutorial

Leave a Reply