তিন নারী প্রধানের বিশেষ তদারকি : শেরপুরে খাল খননের কাজের অব্যয়িত ৬৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

বিশেষ প্রতিনিধি :
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ও জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিনের বিশেষ তদারকির কারণে শেরপুর সদরের কামারেরচর ইউনিয়নে খাল পুন:খনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত বরাদ্দে চেয়ে অনেক কম টাকায় খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে কাজশেষে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প প্রধান আসমা বিনতে রফিক।
এ প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের পাশাপাশি কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়ানো, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এমপির বিশেষ প্রচেষ্টায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী খাল পুনর্খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের সাহাব্দীরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত কাটাখালী খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এ প্রকল্পের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
গত ১৩ মে ২০২৬ পয়েস্তিরচর এলাকায় প্রকল্পটির খননকাজের উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খননকাজ শেষ করা হয়। কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা গত ১৩ আগস্ট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খনন করা হয়েছে। খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।
এ ছাড়া খালটি দীর্ঘমেয়াদে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজে লাগানোর জন্য ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে খালের দুই পাশের মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়া মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পাবে বলে কৃষকরা জানান।
প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা সূত্রে জানা যায়, খননকাজে প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ভরাট খাল পুনর্খননের ফলে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্পের সদস্যসচিব রকিবুল হাসান বলেন, আমাদের প্রকল্পের কাজ গত ১৩ মে শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেছেন। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভালোভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছি। খাল পুনর্খননের ফলে এলাকার কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি সরে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে সেগুলোও মেরামত করে দেওয়া হবে।
টেক অফিসার ও উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, সবার প্রচেষ্টার ফলে খাল খনন কাজ সফল হয়েছে। স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্পের সভাপতি আসমা বিনতে রফিক বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খনন করা হয়েছে। কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এই খাল পুনর্খনন প্রকল্পটি ওই এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, খালটি পুনর্খননের ফলে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, খাল পুনর্খনন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরপরই ওই এলাকার সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং পর্যাপ্ত দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ফসলের জমিতে সেচের পানির সংকট অনেকটাই কমবে। এতে শেরপুরে সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছি। একই সঙ্গে খালের দুই পাশে গাছ লাগানোর ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশও সুন্দর হয়েছে। প্রকল্পের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার একটি ভালো দৃষ্টান্ত।
এবিষয়ে সংসদ সদস্য ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সারাদেশে খাল খনন শুরু হয়েছে। কামারেরচরেও আমরা স্বচ্ছতার সাথে খালটি খনন করতে পেরেছি। আর এখানে অতিরিক্ত টাকা আমরা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছি। এ থেকেই প্রমানিত হয়েছে খনন কাজটি সুন্দর হয়েছে।
















