রশীদুল আলম শিকদার
জন্মের মাত্র চার বছর বয়সে গুটিবসন্তে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান চাঁন সওদাগার। দীর্ঘ সংগ্রাম পেরিয়ে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হয়েছেন তিনি। তবে বয়স ও অসহায়ত্বের ভারে এখন পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তার।
চাঁন সওদাগারের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতীভাঙা ইউনিয়নের আমখাওয়া পূর্বপাড়ায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বাবা মুনছর আলী নিহত হন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মারা যান মা। অল্প বয়সেই এতিম হয়ে পড়েন তিনি।
পরে এক বিদেশি নারী তাকে ঢাকায় নিয়ে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ করে দেন। ব্রেইল পদ্ধতিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন চাঁন সওদাগার। পরবর্তীতে তেজগাঁও ইসলামিয়া মিশনে ভর্তি হয়ে ব্রেইল পদ্ধতিতে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা অর্জন করেন।
২০২৩ সালে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা ও সংসার চালাতে তার সামান্য সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে একমাত্র ছেলে সিরাজুল ইসলাম ভাড়ায় মিশুক ভ্যান চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন। একটি নিজস্ব মিশুক ভ্যান পেলে পরিবারটি কিছুটা স্বাবলম্বী হতে পারে বলে জানান তারা।
অসহায় হাফেজ চাঁন সওদাগার সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তি, এনজিও এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সহায়তা অথবা একটি মিশুক ভ্যান প্রদানের আবেদন জানিয়েছেন।
যোগাযোগ: ০১৯২৬৬৮৫২৯৯।

















