⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

সাশ্রয়ী মূলের জমিতে অফিস করার জন্য ডা: প্রিয়াঙ্কার এমপির চিঠিতে তোলপাড় : জমির মূল্য জটিলতায় থমকে আছে তথ্য ও পরিবেশ অফিস ভবন নির্মান কাজ

HTML tutorial

নিজস্ব প্রতিবেদক :
জমির মূল্য নির্ধারণ জটিলতায় থমকে আছে শেরপুর জেলা তথ্য কমপ্লেক্স ভবন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভবন নির্মান কাজ। সংরক্ষিত আসনের নারী আসনের এমপি ডা: সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা জমি মূল্য পূন: নির্ধারনের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে পত্র লেখার পর বিষয়টি আলোচনায়, শুরু হয় তোলপাড়। অভিযোগ উঠেছে কম মূল্যের জমির দাম বেশী দেখিয়ে সরকারী টাকা অপচয় করে মধ্যস্বত্যভোগীদের লাভবান করার জন্য ইতিপূর্বের প্রশাসনিক কর্মকতারা অধিক মূল্য নির্ধারণ করে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিষয়টি নজরে আসারপর সরকারের অর্থ সাশ্রয় নীতির আলোকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমির মূল্য পূণ:নির্ধারন অথবা অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের জমিতে অফিস ভবন করার জন্য লেখেন সংসদ সদস্য ডা: সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। এরপর থেকে আর কোন অগ্রগতি নেই ভবন দূটির নির্মান কাজের।
সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীনে দেশব্যাপী‘২৬টি জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় শেরপুর জেলায় জেলা তথ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। জেলা তথ্য অফিসের নতুন ভবনে আন্তর্জাতিক মানের ও প্রযুক্তি-নির্ভর বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা রাখার কথা রয়েছে। বহুতল ভবনের তথ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অত্যাধুনিক ও প্রযুক্তি-সংবলিত সিনেপ্লেক্স থাকবে। এখানে সাধারণ ডিজিটাল চলচ্চিত্রের পাশাপাশি 3D এবং 4D চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিশেষ সুবিধা রাখা হবে। ভবনের ভেতরে ও বাইরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচার এবং তথ্য প্রদর্শনের জন্য আধুনিক ইলেকট্রনিক স্ক্রিনের ব্যবস্থা থাকবে। গুজব ও ভুল তথ্য দ্রুত শনাক্ত ও তা প্রতিরোধ করার জন্য বিশেষ প্রযুক্তিগত সেটআপ বা সেল থাকবে। সেমিনার, মতবিনিময় সভা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম ও সুযোগ-সুবিধা সংবলিত অডিটোরিয়াম এবং কনফারেন্স রুমের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এবং গবেষকদের জন্য উন্নত ই-সেবা বা ডিজিটাল তথ্য লাইব্রেরির সুবিধা থাকবে।
এ অফিসের জন্য শেরপুরের শেরীপাড়া এলাকার বনবিভাগের একটি নামা জায়গায় ৩৭.৪২ শতাংশ জমি প্রায় ছয় কোটি টাকায় জমি অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় তৎকালীন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহানের সময়। অথচ ওই জমির প্রকৃত মূল্য সর্বোচ্চ সাড়ে তিনকোটি টাকা।
অপরদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় পরিবেশগত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব (গ্রিন বিল্ডিং) অবকাঠামো হিসেবে তৈরি করার লক্ষে শেরপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের নিজস্ব পাচ তলা বিশিষ্ট ভবনের তিনতলা নির্মানের প্রকল্প গ্রহণ করে। জেলা পর্যায়ের এই নতুন অফিস ভবনে গ্রিন টেকনোলজি ও পরিবেশবান্ধব সুবিধা সম্বলিত উন্নত সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে থাকবে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ এবং আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার বা এসটিপি সুবিধা। স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয় ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করার জন্য এটিকে একটি ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। জেলার শিল্প-কারখানার বর্জ্য, বায়ু ও পানি দূষণ পরীক্ষা এবং নিয়মিত পরিবেশগত ছাড়পত্র যাচাইয়ের জন্য ল্যাব সুবিধা উন্নত করা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র (ECC) বা অভিযোগ সহজে দাখিল করতে পারেন, সেজন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস বা ডিজিটাল বুথ থাকবে।
এই অফিস ভবনটিও জেলা শহরের পশ্চিম শেরীপাড়া স্পন্দন তেল মিলের নিকট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তৎকালীন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সেখানে প্রায় ছয় কোটি টাকায় ৪০ শতাংশ জমি অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই দুটি অফিস ভবন নির্মানের জন্য যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশী। শেরপুর মৌজায় নির্ধারিত গড় মূল্য নিয়ে বেশকিছু এলাকার সাধারণ মানুষ ও জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। মূল শহর ও শহরতলির মহল্লার মধ্যে যে গড় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা প্রকৃত মূল্যের তুলনায় আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। দেখা গেছে অনেকেই কমদামে জমি ক্রয় করে বেশী দামে জমি দলিল করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক স্থানের দেখা যাচ্ছে জমি ক্রয়ের মূলের সমান টাকায় জমি রেজিষ্ট্রি করতে হচ্ছে। এতে হয়রানী হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। শেরপুর মৌজায় বর্তমানে প্রতি শতাংশে নামা ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৯৮২ কান্দা- ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫৬৬. বাড়ি – ৯ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭৯৬, ভিটা- ২লক্ষ ৯৬ হাজার ১২৮, পুকুর – ৬ লক্ষ ৪১ হাজার ৩৬৫, বাঁশঝাড়- ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৩৭, ডোবা- ৬৬ হাজার ২২৫ ও পতিত জমি ১০ হাজার ১৮৪ টাকা নির্ধারণ কর হয়েছে। শেরীপাড়ায় শতাংশ পঞ্চাশ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জমির মূল্য রয়েছে। এতে তথ্য অফিস কমপ্লেক্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস ভবনের নির্ধারিত টাকার অনেক কম মূল্যে জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বিষয়টি স্থানীয় লোকজন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডা: সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাকে জানালে তিনি জমির মূল্য পূণ:নির্ধারণ অথবা অপেক্ষা কম মূলের জমিতে অফিস করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট পত্র লিখেন। এ প্রেক্ষিতে বর্তমানে
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট ও জেলা অফিসার মুহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোন কথা নেই। আমরা ভবন নির্মানের বিষয়ে বর্তমমান অবস্থা তুলে ধরে জানিয়েছি। এখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখবেন। জেলা তথ্য অফিসার মুহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারবোনা। আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবনে। তবে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না পারলে অফিসটি না হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ডা: সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমাকে স্থানীয় সুধীজনদের পক্ষ থেকে জমির অধিক মূল্যের বিষয়টি জানানো হয়। পরে আমি সাশ্রয়ী মূল্যে জমি ক্রয়ের বিষয়ে প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্মকতাদের নিকট পত্র লিখি। যাতে সরকারের কোন টাকা কেউ তশ্রুপ করতে না পারে। তাই আমি দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে অফিস ভবন দুটি করার কার্যকর ব্যবস্থা্ গ্রহণ করার জন্য দাবী জানাচ্ছি।

HTML tutorial

Leave a Reply