⁜ অর্থ-বাণিজ্য

⁜ প্রযুক্তি

⁜ বিনোদন

স্ত্রী দাবি করা ফারজানা আফরোজকে নিয়ে যা বললেন গোলাম মাওলা রনি

HTML tutorial

ঢাকা অফিস :
ফারজানা আফরোজ নামের এক নারীর জাতীয় নাগরিক পার্ট–এনসিপিতে যোগ দেওয়ার খবরের সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই নারীর সঙ্গে তাঁর তালাক কার্যকর হয়েছে আগেই।

তবে তালাক হওয়ার কথা জানালেও ফারজানা আফরোজের সঙ্গে বিয়ে হয়নি বলে দাবি করেছেন গোলাম মাওলা রনি। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি শুরু থেকে পরিবারের সদস্যরাসহ কাছের লোকজন জানত।

ফেসবুকে গোলাম মাওলা রনি লেখেন, ‘সময়টা ইউনূস জমানার। তখন ইল্লুদের প্রভাব তুঙ্গে! ইল্লুর প্ররোচনায় স্ত্রী দাবি করা মহিলা হঠাৎ একদিন আমার অফিস এলেন। আমি ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশ ডাকলাম। পুলিশ এসে মহিলাকে বললো- আপনার কাছে কি আছে বিয়ের প্রমাণ। সে বললো কাগজ আছে। কিন্তু দেখাল না। কারণ ওটা নাকি আমার কাছে নেই। আমি যদি পাই তবে তাকে আইন মোতাবেক তালাক দিয়ে দেব। পুলিশ তাকে অফিস থেকে নিয়ে গেল। মহিলা নিচে নেমে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চম্পট দিলেন।’

রনি বলেন, ‘এরপর তিনি চক্রান্তের দ্বিতীয় অংশ বাস্তবায়নের জন্য ধানমন্ডিতে আমার বাসায় উপস্থিত হলেন। আমি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে মহিলার আত্মীয় পরিচয়ে দুইজন লোককে আনা হয় এবং থানার কর্তাব্যক্তিরা মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে কথিত কাবিনের একটি কপি সংগ্রহ করতে সামর্থ হন।’

গোলাম মাওলা রনির ভাষ্য, ‘আইনবীদদের পরামর্শ ছিল- কাবিনটির যথাযথতা এবং কবিনের আড়ালের ঘটনা কোর্ট–কাঁচারিতে গিয়ে প্রমাণ করতে গেলে কয়েক বছর লাগবে এবং তারা চাচ্ছে আপনাকে কোর্টে নিয়ে জিম্মি করার জন্য। তারচেয়ে তাকে কাবিন অনুযায়ী তালাক এবং দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা দিয়ে দিলে মন্দের ভালো হয় এবং চক্রান্তের ইতি ঘটে।’
গোলাম মাওলা রনি আরও বলেন, ‘উল্লিখিত বিষয়টি আমার পরিবার, আত্মীয় স্বজন এবং আপনজনরা প্রথম দিন থেকেই জানতেন । কাজেই আমার মানসিক এবং নৈতিক শক্তি অটুট ছিল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমার আপনজনরা সবাই আন্তরিকতা নিয়ে আমার পাশে দাঁড়ায়।’

সাবেক সংসদ সদস্য রনি বলেন, ‘এরই মধ্যে চক্রান্তের অংশ হিসেবে মহিলা এবং তার গডফাদার ইউটিউবার ইলিয়াস একটি ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। বনি আমিন নামক আরেক ইউটিউবারকেও দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেয় মূলত আমাকে হেয় করার জন্য। ইতোমধ্যে, যেহেতু আইন মোতাবেক তালাক কার্যকর এবং রেজিস্ট্রি হয়ে যায় এবং মহিলা তার দাবিকৃত টাকা পেয়ে যায় সেহেতু বিষয়টি নিয়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।’

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক রনি বলেন, ‘আমি পুরো ঘটনা বর্ণনা করে শাহবাগ থানায় মামলা করি, তালাকের নোটিশ প্রদান করি এবং কথিত কাবিনে বর্ণিত টাকা পরিশোধ করি। স্ত্রী দাবি করা মহিলার লোকজন এরপর একাধিক বার যোগাযোগ করে এবং আমার সামাজিক সম্মানকে জিম্মি বিশাল বিশাল দাবি করতে থাকে। আমি নিজেকে অটল রাখি। মহিলার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করিনি তার সাবেক স্বামীর ওরসে পয়দা হওয়া বিবাহ উপযুক্ত এবং কিছুটা মানসিক অসুস্থ মেয়ের এবং কিশোর ছেলের কথা চিন্তা করে।’

গোলাম মাওলা রনি আরও বলেন, ‘উল্লিখিত বিষয়টি আমার পরিবার, আত্মীয় স্বজন এবং আপনজনরা প্রথম দিন থেকেই জানতেন । কাজেই আমার মানসিক এবং নৈতিক শক্তি অটুট ছিল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমার আপনজনরা সবাই আন্তরিকতা নিয়ে আমার পাশে দাঁড়ায়।’

সাবেক সংসদ সদস্য রনি বলেন, ‘এরই মধ্যে চক্রান্তের অংশ হিসেবে মহিলা এবং তার গডফাদার ইউটিউবার ইলিয়াস একটি ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। বনি আমিন নামক আরেক ইউটিউবারকেও দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেয় মূলত আমাকে হেয় করার জন্য। ইতোমধ্যে, যেহেতু আইন মোতাবেক তালাক কার্যকর এবং রেজিস্ট্রি হয়ে যায় এবং মহিলা তার দাবিকৃত টাকা পেয়ে যায় সেহেতু বিষয়টি নিয়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘উল্লিখিত ঘটনার এতো পরে এনসিপির নাহিদরা কেন আমার স্ত্রী দাবি করা মহিলার প্রতি এতটা আকৃষ্ট হলো এবং এই মহিলার নেতৃত্বে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখল তা আমার বোধগম্য নয়।’

ফেসবুক পোস্টের অভিযোগপত্রের ছবি সংযুক্ত করে গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জমানায় আমার মতো বহু মানুষকে কীভাবে বিভিন্ন সিন্ডিকেট জিম্মি করতো তা যদি কেউ জানতে চান তবে শাহবাগ থানায় করা আমার অভিযোগটি পড়তে পারেন। আমার জীবনটি আমার আপনজন, প্রতিপক্ষ এবং শত্রুদের জন্য উন্মুক্ত। গোপন, লুকোচুরি এবং অন্যায়ের সঙ্গে সমঝোতার মতো কোনো ঘটনা নেই।’

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে গোলাম মাওলা রনি উল্লেখ করেন, ‘জীবনের সব ঝড় মোকাবিলা করেছি কিন্তু আপস করিনি। কারও সঙ্গে লাগতে যাইনি, কিন্তু কেউ লাগতে এলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করেছি।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা আফরোজ এনসিপির নারী উইং ‘জাতীয় নারী শক্তির’ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একটি বড় দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনির ‘স্ত্রী’ ফারজানা আফরোজ এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে প্রতিবাদ জানান রনি। তাঁর দাবি, ওই নারী তার স্ত্রী নন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেসবুক পেজে একটি গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করেন গোলাম মাওলা রনি। ফটোকার্ডে বলা হয়েছে, ‘এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন গোলাম মাওলা রনির স্ত্রী’।

রনি কার্ডটি শেয়ার করে লেখেন, ‘এই মহিলা আমার স্ত্রী নন। সাতকানিয়া জামায়াত নেতা হারুনের সাবেক স্ত্রী। চট্টগ্রামের বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা ঘি বাবুলের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী এবং আমেরিকান প্রবাসী ইলিয়াসের আপনজন।’

Share this news as a Photo Card

HTML tutorial

Leave a Reply

06 November 2026

স্ত্রী দাবি করা ফারজানা আফরোজকে নিয়ে যা বললেন গোলাম মাওলা রনি

www.protidinerchithi.com