সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:
সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং সরিষাবাড়ী রুদ্র বয়রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বাসেদের ওপর হামলা করেছে দূবৃত্তরা। মঙ্গলবার উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্র বয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে ক্লাশ বর্জন করেছে শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্র বয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে মোটর সাইকেল যোগে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ৪-৫ জন অজ্ঞাত যুবক প্রধান শিক্ষক ছাইফুর রহমান বাছেদের গতিরোধ করে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করে। দ্বিতীয় দফায় তাঁকে রুদ্র বয়ড়া জামে মসজিদের পেছনে নিয়ে আবারও মারধর করা হয় এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সে (নম্বর ঢাকা মেট্রো-ছ-৭১-৩৭৩০) তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক জানান। রুদ্র বয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম হামলার ঘটনা রুদ্র বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানান। সংবাদ পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলম, জাকির, তানিয়া ও বিউটিসহ স্থানীয় জহুরুল হক বাদশা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানাগেছে। আহত প্রধান শিক্ষক একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে অ্যাম্বুলেন্সটি কী উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিল জানতে ড্রাইভার কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ঘুম পাড়ার জন্য অবস্থান নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক ছাইফুর রহমান জানান, “আমাকে প্রথমে মোটরসাইকেলসহ সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। পরে টেনে-হিঁচড়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার চেষ্টা করা হয়। সেখানে নিতে না পেরে মসজিদের পেছনে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমার আশঙ্কা, আমাকে অপহরণ করে গুম করার উদ্দেশ্যেও এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ফকির বলেন, “প্রধান শিক্ষক ছাইফুর রহমানকে কিছু অপরিচিত যুবক মারধর করেছে বলে জেনেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে প্রধান শিক্ষক আমাদের লিখিতভাবে অবগত করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

















